বিজ্ঞাপন

কাবিলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম হাসান জানান, ‘প্রভাবশালী আশরাফ ও শাহাবুদ্দিন দুই ভাই এরই মধ্যে আমাদের এলাকার বাসিন্দাদের ২০ বিঘা জমি বালু দিয়ে ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন। ২০ বিঘা জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া এই দুই ভাই এরই মধ্যে তিন বিঘা সরকারি খাসজমি ও দুই বিঘা সরকারি খাল দখল করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।’
ইব্রাহিম হাসান আরও জানান, ‘দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণ করে চর দখলের মতো গ্রামবাসী ও সরকারি জায়গা দখল করে নেওয়ার পর আমরা থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এ ছাড়া বিষয়টি স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জানালেও তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
দুই ভাই এরই মধ্যে কাবিলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের ৩ বিঘা, রানা সরকারের ৪ বিঘা, আনোয়ার আলীর ২৫ শতাংশ, আবদুল মান্নানের ১০ শতাংশ, ওয়ালিদ মিয়ার ৪৫ শতাংশ, সালাউদ্দিন মিয়ার ১৪ শতাংশ, স্বপন মিয়ার ৪২ শতাংশ, আজিজুল ইসলামের ১২ শতাংশ, মানিক প্রধানের চার বিঘা জমিসহ গ্রামবাসীর ২০ বিঘা জমি বালু দিয়ে ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন।

স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ভাই আশরাফ ও শাহাবুদ্দিন দুর্বৃত্তদের জড়ো করে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে চর দখলের মতো গ্রামবাসীর জায়গা, সরকারি জমি ও খাল দখল করে নিচ্ছেন। আমি বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।
জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন, সোনারগাঁ

স্থানীয় মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, ‘স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ভাই আশরাফ ও শাহাবুদ্দিন দুর্বৃত্তদের জড়ো করে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে চর দখলের মতো গ্রামবাসীর জায়গা, সরকারি জমি ও খাল দখল করে নিচ্ছেন। আমি বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কিন্তু তাঁদের দখলবাজি বন্ধ হচ্ছে না।’

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আশরাফ ও শাহাবুদ্দিনের সহযোগীরা খননযন্ত্রের সাহায্যে সরকারি খাল ও গ্রামবাসীর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ভরাট করে দখল করে নিচ্ছেন।

বালু ভরাটের কাজের ঠিকাদার জাবেদ মিয়া জানান, ‘মালিকপক্ষের দেখানো জায়গায় আমরা বালু ভরাট করছি। শুনেছি, অনেকের জায়গা এখনো ক্রয় করা হয়নি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশরাফ মিয়া ও শাহাবুদ্দিন জানান, ‘গ্রামবাসীর কিছু জমি এখনো আমরা ক্রয় করতে পারিনি, এ কথা সত্য। দাম বেশি চাওয়ায় তাঁদের জমি বালু দিয়ে ভরাট করেছি। ন্যায্যমূল্য চাইলে ক্রয় করে নেব। এ ছাড়া আমাদের ক্রয় করা জায়গায় বালু ভরাট করার সময় সরকারি খাসজমি ও খাল বালু ভরাট হয়ে গেছে। তবে খাল থেকে বালু সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু অস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণের সঙ্গে আমরা জড়িত নই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ‘আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তদন্ত করে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি, সরকারি খাসজমি ও খাল দখলের অভিযোগ পেয়েছি। এরই মধ্যে তাঁদের এক লাখ টাকা জরিমানা করেছি। সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন