default-image

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রামে স্ত্রীর ইটের আঘাতে স্বামী সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সাইফুল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাইফুলের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে সাইফুল ও তাঁর স্ত্রী রোজিনার মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি মারধরে রূপ নেয়। রেগে গিয়ে সাইফুল ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে রোজিনার দুই হাত কেটে যায়। এ সময় স্বামীকে তিনি একটি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। আঘাতের পর সাইফুল অচেতন হয়ে পড়েন। রোজিনা মুঠোফোনে তাঁর মা-বাবাকে ডাকেন। তাঁরা এসে অচেতন সাইফুলকে একটি নারকেলগাছে বেঁধে রাখেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সাইফুলকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গতকাল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সাইফুলের বাবা ভাদু মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, সাইফুলের মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে দিয়ে পরে গাছে বেঁধে তাঁকে মারধর করা হয়। অতিরিক্ত নির্যাতনে তাঁর ছেলের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

রোজিনা বলেন, ‘সাইফুল মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি মাদক সেবন করে প্রায়ই আমাকে নির্যাতন করতেন। গত সোমবার রাতে সাইফুল ছুরি দিয়ে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেন। ছুরির আঘাতে আমার দুই হাত জখম হয়। তাঁর হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করি।’

গাংনী থানার ওসি বজলুর রহমান বলেন, পুলিশের একটি দল সাইফুলকে গাছে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাইফুল মারা গেছেন বলে তাঁর পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন