default-image

দুই বোন বিয়ে করেছিলেন দুই ভাইকে। বড় বোন কামরুন্নাহারের বিয়ে হয় শাহজাহানের সঙ্গে। আর ছোট বোন শামছুন্নাহারের বিয়ে হয় শাহজাহানের ছোট ভাই সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে। এখন থেকে প্রায় ১৮ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় কামরুন্নাহারের স্বামী মারা যান। আর গতকাল শুক্রবার রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কামরুন্নাহার, ছোট বোন শামছুন্নাহার ও তাঁর স্বামী-সন্তান সবাই মারা যান। মায়ের সঙ্গে বেড়াতে বের না হওয়ায় দুই বোনের পরিবারে বেঁচে আছেন শুধু কামরুন্নাহারের একমাত্র ছেলে আহসান হাবিব।  

আজ শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই মেয়ে, জামাতা ও নাতি-নাতনির লাশ নিতে এসেছিলেন কামরুন্নাহারের বাবা আবদুল করিম সরকার। তাঁর বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়রাজারামপুর গ্রামে। রাতেই রংপুর থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছেছেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত প্রিয়জনদের লাশ দেখতে পাননি। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে দেরি হচ্ছে। সেই অপেক্ষায় বসে আছেন তিনি।

কামরুন্নাহারের সঙ্গে মাইক্রোবাসে ছিলেন তাঁর ছোট বোন শামছুন্নাহার, তার স্বামী সালাহ উদ্দিন, তাদের দুই ছেলেমেয়ে সাজিদ ও সাফা। তারা এখন শুধুই স্মৃতি।

বিজ্ঞাপন

আবদুল করিম সরকারের সঙ্গে লাশ নিতে এসেছিলেন মহসীন আলী নামে তাঁর এক আত্মীয়। তিনি লাশ নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছিলেন। মহসীন বলেন, ১৮ বছর আগে একইভাবে কামরুন্নাহারের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি একটি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। আর একটি বাস তাঁকে চাপা দিয়েছিল। কে জানত, যাঁরা বাকি ছিলেন তাঁরা একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবেন!

মহসীন বলেন, এই পরিবারের জন্য শোক সামাল দেওয়া কঠিন হবে। আরও কঠিন হবে কামরুন্নাহারের ছেলে আহসান হাবিবের জন্য। হাবিব এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জন্মের পর তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। একমাত্র অবলম্বন ছিলেন মা। তিনিও একইভাবে চলে গেলেন। আফসোস করে তিনি বলেন, কে জানত যে দুই বোনের সংসার এভাবে সড়কেই শেষ হয়ে যাবে!

শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে রাজশাহীর কাটাখালী থানার সামনে মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। এই আগুনে পুড়ে মাইক্রোবাসের ১৭ আরোহীর মৃত্যু হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন