সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগ

দাকোপ ও বটিয়াঘাটা থেকে খুলনা শহরে যাওয়ার সড়ক এটি। এর বাইরেও পাইকগাছা ও কয়রার কিছু মানুষ ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

খুলনা-চালনা সড়কের বেহাল। সড়কের কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে অনেক স্থানে। চলাচলকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সম্প্রতি খুলনা-চালনা সড়কের বটিয়াঘাটার কিসমত ফুলতলার
ছবি: প্রথম আলো

পিচ-খোয়া উঠে স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। কোথাও আবার পিচের ঢালাই উঠে রাস্তায় পাথর ছড়িয়ে রয়েছে। সৃষ্টি হওয়া ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে এঁকেবেঁকে চলছে যানবাহন। খুলনার ‘গল্লামারী বটিয়াঘাটা দাকোপ নলিয়ান ফরেস্ট’ সড়কের গল্লামারী থেকে গোপালখালী পর্যন্ত অংশের বেশির ভাগের এখন এই অবস্থা। এতে সড়কটিতে চলতে গিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা।

দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে খুলনা শহরে যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ওই দুই উপজেলার বাইরেও পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার কিছু এলাকার মানুষ ওই গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। লাখো মানুষ সড়কটি ব্যবহার করে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে থাকা গল্লামারী সেতু থেকে নলিয়ান পর্যন্ত জেলা সড়কটির দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। তবে সড়কের গল্লামারী থেকে চালনা পৌরসভা পর্যন্ত সাড়ে ২৪ কিলোমিটার পাকা। বাকি অংশ এখনো পাকা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারও করা হয়নি।

গল্লামারী থেকে গোপালখালী পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ ১৮ কিলোমিটার অংশের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।
আবু নাঈম, উপসহকারী প্রকৌশলী, সওজ অধিদপ্তর, খুলনা কার্যালয়

ওই সড়কে চলাচলকারী একজন ট্রাকচালক মো. আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, শুকনা বা বৃষ্টি, এই সড়কে সব সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টি হলে সড়কটিতে ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়ায়। আর অন্য সময় ধুলাবালুর ভোগান্তি পেছন ছাড়ে না। যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আমাদেরও অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। পাশাপাশি গাড়িও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে যায়।

সওজ কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কটি দিয়ে বর্তমানে প্রচুর ভারী যানবাহন চলে। দাকোপ ও বটিয়াঘাটা অঞ্চলে কিছু এলপিজি গ্যাস কোম্পানিসহ অন্য শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় সড়কটির ব্যস্ততা বেড়েছে। সড়কের পাশে বিভিন্ন জমি ভরাট করে স্থাপনাও বাড়ছে। এই অঞ্চলে সুন্দরবন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। এসব কারণে যানবাহন চলাচলও বেড়েছে। সড়কে বেশি চাপ পড়ছে।

সওজ কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ ২০১২-১৩ সালে দিকে সড়কটি বড় রকমের সংস্কার হয়েছিল। এরপর মাঝেমধ্যে ছোটখাটো সংস্কার হয়েছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন দেখা যায়, গল্লামারী থেকে মোহাম্মদ নগর মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা। জলমা চক্রাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মল্লিকের মোড়, শোলমারি সেতু হয়ে বটিয়াঘাটা সদরের নতুন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে। রাস্তায় পাথর ছড়িয়ে রয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে হেলেদুলে চলছে যানবাহন। এরপর বটিয়াঘাটা থেকে কিসমত ফুলতলা মঠ পর্যন্ত ছোট-বড় হাজারো গর্ত। সেখান থেকে খড়িয়া স্লুইসগেট অংশ পর্যন্ত সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাস, ভ্যান, ইজিবাইক ঝুঁকি নিয়ে চলছে। চারদিকে সমানে উড়ছে ধুলাবালু।

বটিয়াঘাটার ফুলতলা এলাকার ত্রিবেণী বিশ্বাস বলেন, খুলনা জেলা শহরের সঙ্গে দাকোপ বটিয়াঘাটা এই দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। দুটি উপজেলার সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স এই সড়ক দিয়েই শহরের বড় হাসপাতালে রোগী আনা-নেওয়া করে। সড়ক ধরে সুন্দরবন-সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। অথচ সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

ইজিবাইকচালক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, এই সড়কে বাস, ট্রাক ও পণ্য পরিবহনের গাড়ির পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ভ্যান ও ইজিবাইক চলে। বছরখানেক ধরে সড়কটি বেশি খারাপ অবস্থায় আছে। অতিরিক্ত ভারী যান, বিশেষ করে এলপিজি গ্যাস ভর্তি গাড়ি চলায় সড়কটি এমন বেহাল। শিগগিরই সংস্কার না করলে কয়েক দিন পর একদমই চলাচল করা যাবে না।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু নাঈম বলেন, সড়কটি অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। গল্লামারী থেকে গোপালখালী পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ ১৮ কিলোমিটার অংশের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।