default-image

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে যারা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে কিশোর গ্যাং সৃষ্টির অপসংস্কৃতির ধারা প্রতিরোধ করতে আসামিদের এই শাস্তি দেওয়া হয়।

বরগুনার জেলা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক এই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ছয়জনকে ১০ বছর করে, চারজনকে ৫ বছর করে এবং একজনকে ৩ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে রায় ঘোষণা শুরু করেন জেলা শিশু আদালতের বিচারক। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বরগুনার আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

রায়ে বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং যারা হত্যায় অংশ না নিলেও দর্শকের ভূমিকায় ছিল, তাদের ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামির বয়স কম হওয়ায় তাকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, আলোচিত এই হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে সারা দেশে যে  কিশোর গ্যাং সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, তা উৎসাহিত হবে।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

তবে এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান মিয়া ও গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এই রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। এ জন্য আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। হত্যার ঘটনায় অতিরিক্ত বেশ কিছু সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বরগুনা কারাগারে থাকা এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে এ মামলায় জামিনে থাকা আট আসামি আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়। রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সাতজন। এ ছাড়া বাকি সাত আসামি আত্মসমর্পণ করেছে।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ছিলেন এ মামলার প্রধান সাক্ষী। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ওই বছরের ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। ১ সেপ্টেম্বর মামলায় ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুভাগে বিভক্ত করে আদালতে পৃথক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

গত ৮ জানুয়ারি বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১৩ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ১৪ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে ৭৪ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর পক্ষে-বিপক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0