খোয়াই নদ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে বয়ে এসে হবিগঞ্জ শহর ঘেঁষে ধলেশ্বরী হয়ে মেঘনায় মিশেছে। ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টি হওয়ায় গত দুই দিন এই নদ বেশ উত্তাল ছিল। নদের পানি বিপৎসীমার ১২৭ থেকে ১২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। হবিগঞ্জ শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ পড়ে ঝুঁকিতে। জেলা প্রশাসন মাইকিং করে শহরবাসীকে সতর্ক করে দেয়। খোয়াই নদের পশ্চিম পাশে হবিগঞ্জ শহর। পূর্ব পাশে সদর উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম।

এদিকে আজ সকাল থেকে নদের পানি কমতে শুরু করায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পূর্ব ভাদৈ গ্রামের বাসিন্দা ‍কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘দুই রাত আমরা ঘুমাতে পারিনি—কখন জেলা প্রশাসন শহর রক্ষা করতে গিয়ে পানির প্রবাহ হাওরে ছাড়ার জন্য পূর্ব পাড় কেটে দেয়! তবে আজ পানি কমে যাওয়ার খবর পেয়ে বেশ ভালো লাগছে।’

হবিগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, খোয়াই নদের পানি ২১ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার পার করলেই তা বিপৎসীমার ওপরে ধরা হয়। এ হিসাবে আজ দুপুরে খোয়াই নদের পানি ২০ দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলার মধ্যে ভাটির ৬টি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি একটু বেশি। জেলায় প্রায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া উঁচু বাড়িঘর, সড়ক, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় যেখানে সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় পানি বাড়তির দিকে থাকলেও নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন