‘ফাগুন হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ুক পাঠ-আনন্দ’ স্লোগান নিয়ে মানিক চৌধুরী পাঠাগারের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। আজ শনিবার রাতে
‘ফাগুন হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ুক পাঠ-আনন্দ’ স্লোগান নিয়ে মানিক চৌধুরী পাঠাগারের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। আজ শনিবার রাতেপ্রথম আলো

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের মানবিক চেতনার জায়গাটি আরও বড় করতে হবে। শিশু ও তরুণদের মানবিক হতে ও সম্মান করতে শেখাতে হবে। জায়গাটিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নইলে আমাদের সব অর্জন এক জায়গাতে এসে থেমে যাবে। তাই শিশুদের বেশি করে বই পড়াতে হবে। বই জ্ঞানের তৃষ্ণা মেটায়।’

আজ শনিবার রাতে হবিগঞ্জে মানিক চৌধুরী পাঠাগারের উদ্বোধন ও ফাগুন উৎসবে সেলিনা হোসেন এসব কথা বলেন। ‘ফাগুন হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ুক পাঠ-আনন্দ’ স্লোগান নিয়ে এই পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়। জাদুঘর ভবনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক।

সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আমাদের ভাষা আন্দোলনে তরুণেরাই প্রাণ দিয়েছে বেশি। তরুণেরাই দেশে প্রতিটি সংকটে এগিয়ে আসে। এ দেশের একদল তরুণ এখন লালন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের এ উদ্যোগ আমাদের নতুন পথ দেখাবে।’

অনুষ্ঠানে মহান ভাষা আন্দোলন ও মানিক চৌধুরী পাঠাগারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার বরেণ্য ব্যক্তিকে মানিক চৌধুরী পাঠাগার সম্মাননা পদক-২০২১ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের আনিসুল হক বলেন, ‘যত ধরনের কাজ আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ কাজ হচ্ছে মানুষকে আলোকিত করা। মানুষকে আলো দেওয়া। এ আলো দিয়ে আমরা বাংলাদেশটাকে গড়ে তুলব। সাম্প্রদায়িকতার অন্ধকার ও মৌলবাদের অন্ধকারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে। এদের বিরুদ্ধে তো তরবারিযুদ্ধ চালানো যাবে না, এদের বিরুদ্ধে আলো জ্বালাতে হবে। বাংলাদেশ কখনো পরাজিত হবে না। বাংলাদেশ যে পরাজিত হবে না, তার ১০১ লক্ষণ আমরা দেখছি। মহামারির সময় সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আমরা পারছি আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে জয়ী হয়েছি বলে।’

বিজ্ঞাপন

মানিক চৌধুরী পাঠাগারের সভাপতি ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ-২ (আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুশফিক হোসেন চৌধুরী, কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর সহধর্মিণী রোকেয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক চৌধুরীর মেয়ে সাবেক সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী।

default-image

অনুষ্ঠানে মহান ভাষা আন্দোলন ও মানিক চৌধুরী পাঠাগারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ হবিগঞ্জের দুই কৃতী সন্তানসহ চার বরেণ্য ব্যক্তিকে মানিক চৌধুরী পাঠাগার সম্মাননা পদক-২০২১ প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন ভাষাশহীদ সৈয়দ আফরোজ বখত (মরণোত্তর), চৌধুরী আবদুল হাই (মরণোত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি কাজী নূরুল করিম (মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর–মানিক চৌধুরী পাঠাগার ভবনের নকশা প্রণয়নে) ও চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল (মানিক চৌধুরী পাঠাগারের লোগো অঙ্কনে)।

বেলা ৩টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা বাউলগান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন