আজ শুক্রবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, হরিপুর উপজেলা পরিষদের পশ্চিম পাশের পশু সম্পদ দপ্তরের দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হয়েছে মডেল মসজিদটি। মসজিদের সিঁড়ি ধরে এগোলেই নজরে দেয়ালের অনেক জায়গায় ফেটে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, মসজিদের জায়গায় ঠিকভাবে পাইলিং না করার কারণে তা দেবে গিয়ে দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, না হলে এভাবে ফাটবে কেন?

default-image

জামুন গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা দেখছি, মসজিদে ফাটল ধরেছে। কী কারণে মসজিদের ভবনে ফাটল দেখা দিল, আমরা এর ব্যাখ্যা বুঝতে চাই না। ফাটলের কারণে আমরা আতঙ্কিত।’

হরিপুরের মিনাপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো মসজিদটি হস্তান্তর করা হয়নি। এরই মধ্যে মসজিদে ফাটল দেখা দিয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে, ফাটলের আকার বাড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঠিকাদার খায়রুল কবীর ফোন ধরেননি।

মসজিদে ফাটলের খবর পেয়ে গত বুধবার পরিদর্শনে যান নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এম কে এম নুরুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, লিনটেন ও বিমের সঙ্গে ইটের গাঁথুনির সংযোগস্থলের পাঁচ থেকে ছয়টি জায়গাসহ দেয়ালের কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এটা ঠিকমতো কিউরিং (পানি দেওয়া) না করার কারণেও হতে পারে।

নুরুল হাসান আরও বলেন, আসলে ভবনের লোড নেবে বিম আর বিমের লোড নেবে কলাম। কলামের লোড নেবে ভিত্তিটা। ইটের তৈরি দেয়াল তো কখনো লোড নেবে না। দেয়ালে ফাটল ধরলেও সেখানে ভয়ের কিছু নেই। তবে দেয়ালে ফাটলের বিষয়টি আশঙ্কার না হলেও দৃষ্টিকটু। ফাটলগুলো সংস্কার করে দিলেই সেটা আর বোঝার উপায় থাকবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, হরিপুর মডেল মসজিদের দেয়ালে ফাটলের বিষয়টি নজরে এসেছে। দু-এক দিনের মধ্যে মসজিদটি পরিদর্শন করে ফাটলের কারণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন