বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আঁখির বাবা মানিক মিয়া বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। ১৯৯৬ সালে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় গিয়েছিলেন। সপরিবার সেখানেই থাকতেন। একদিন বিকেলে বেড়াতে গিয়ে আঁখিকে গুলিস্তান মোড়ে একটি পানের দোকানের সামনে রেখে টয়লেটে যান তিনি। পরে মেয়েকে আর সেখানে পাননি। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার আশায় মাইকিং করেন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে মেয়েকে পাননি। এভাবে কেটে গেল ২৫টি বছর। এর মধ্যে পরিবার নিয়ে তিনি কয়েক বছর আগে গফরগাঁওয়ে ফিরে যান।

আঁখির পরিবার জানায়, হঠাৎ একদিন তাদের প্রতিবেশী মৌসুমী বাড়িতে এসে আঁখির কথা জানান। সম্প্রতি ‘আপন ঠিকানা’ নামের একটি অনুষ্ঠানে আঁখির সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। পরে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়। সেই সাক্ষাৎকার মুঠোফোনে তাঁদের শোনান মৌসুমী। পরে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। খোঁজ পান আঁখির।

আঁখি নূর বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়ার দিন বাবাকে না পেয়ে অনেক কান্নাকাটি করি। পরে কোনো উপায় না দেখে একটি বাসে উঠে বসি। আমাকে কাঁদতে দেখে একজন বয়স্ক লোক আমাকে নিয়ে যান এবং আরামবাগের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে আসেন। এর পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রেই বড় হয়েছি। সেখান থেকে বের হয়ে একটি বিউটি পারলারে কাজ নিই। খোঁজ করতে থাকি পরিবারের।’ তিনি জানান, একসময় আশুলিয়ার বাসিন্দা মাসুম মোল্লাকে বিয়ে করেন তিনি। স্বামীর ওয়ার্কশপ আছে। সংসারে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মুঠোফোনে আরজে কিবরিয়ার ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠানে মানুষের হারিয়ে যাওয়ার গল্প শোনেন তিনি। তখন সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর একদিন ডাক পেয়ে নিজের জীবনের গল্প শোনান।
দীর্ঘদিন পর মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে আঁখি নূর কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘পরিবারের কাছে এত দিন পর ফিরে আসার আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না।’ মেয়ের শরীরের জন্মদাগ এবং ঘটনার বর্ণনা শুনে মা-বাবা নিশ্চিত হন, আঁখি তাঁদেরই মেয়ে।

আঁখির ছোট বোন আমেনা বলেন, ‘বোনের ছোট বয়সের অনেক স্মৃতি আমার মনে আছে। বোনকে হারানোর পর মন খারাপ করতাম। মনে হতো, বোনকে বুঝি কখনো ফিরে পাব না। তবে মা বলতেন, দেশটা ছোট। একদিন না একদিন ঠিকই মেয়েকে পাব। অবশেষে মায়ের কথাই সত্য হলো।’ আঁখি নিজের মা-বাবা, ভাইবোনকে খুঁজে পেয়েছেন, এতে খুশি তাঁর স্বামী মাসুম মোল্লা। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন