বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাখি খাতুন নাটোর শহরের বড়গাছা মহল্লার ইজিবাইকচালক বেলাল হোসেনের মেয়ে। ব্র্যাক স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে এ বছর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে সে। মায়ের রান্নার লাকড়ি জোগাড় করতে গত রোববার বিকেলে বাড়ির পাশের আমগাছে উঠেছিল পাখি। হঠাৎ পড়ে যায় নিচে। এতে তার বাঁ হাতের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসার জন্য সেই দিনই তাকে নাটোর ট্রমা সেন্টারের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তরিকুল ইসলামের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এক্স-রে করিয়ে হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসক। হাড় জোড়া লাগানোর জন্য তার বাঁ হাতে প্লাস্টার ব্যান্ডেজ (অর্থোপেডিক কাস্ট) পরিয়ে দেওয়া হয়।

কবিরাজ পাখির বাবাকে বলেন, ‘আমাকে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেন। আমি চিকিৎসা করে সাত দিনের মধ্যে পাখিকে আবার গাছে চড়াব।’

পরের দিন প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্থানীয় কবিরাজ শরিফুল ইসলাম আসেন পাখিকে দেখতে। শরিফুল ইসলাম সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের আমহাটি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। তিনি পাখির বাবাকে বলেন, ‘আমাকে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেন। আমি চিকিৎসা করে সাত দিনের মধ্যে পাখিকে আবার গাছে চড়াব।’ এই আশ্বাস পেয়ে পাখির বাবা কবিরাজের হাতে ৩০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব দেন। কবিরাজ ওই দিনই হাসপাতালের ব্যান্ডেজ খুলে ফেলে গাছগাছড়া দিয়ে নতুন করে ব্যান্ডেজ করে দেন। রাতেই তার হাতে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।

পরের দিন সকালে কবিরাজ এসে ব্যান্ডেজ খুলে দেখেন পাখির হাতে ফোসকা পড়েছে, হাত কালো হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কবিরাজ পালিয়ে যান। পরে মেয়েটিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর শয্যায় রেখে তার চিকিৎসা চলছে।

পাখির বাবা বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেলের ডাক্তার বলেছেন, কবিরাজের ব্যান্ডেজে তাঁর মেয়ের হাতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই হাতে পচন ধরেছে। এখন হাত কেটে ফেলা লাগতে পারে।’

নাটোর ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পাখির হাত ভাঙার সুচিকিৎসাই তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু কবিরাজের অপচিকিৎসায় তার হাতটি নষ্ট হতে বসেছে। এসব কবিরাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন