বিজ্ঞাপন

রাত আরও গভীর। বরইতলা ফেরিঘাট থেকে পশ্চিমে লতাবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেল পানির তোড় থেকে বাঁচাতে বাসিন্দাদের হুড়োহুড়ি। কেউ বাচ্চা, কেউ মালামাল কাঁধে নিয়ে বাঁধের ওপরে আসছেন। সেখানে আকলিমা নামের এক গৃহবধূ আতঙ্কের স্বরে বললেন, ‘ঘরে আমার বাচ্চা আর ভাইবোন আটকা পড়ছে। অগো ঘরের মাচায় বইয়্যা থাকতে কইছি। ঘরের মালামাল তো রক্ষা করতে অইবে।’

default-image

আরও পশ্চিমে ডালভাঙা গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, বাঁধের বাইরের অনেক পরিবার মূল বাঁধের ওপরে আশ্রয় নিয়েছে। তবে মালামাল যাতে খোয়া না যায়, সে জন্য জীবনের ঝুঁকি জেনেও পরিবারের দু-এক সদস্যকে ঘরে রেখে এসেছেন। সোহাগ মিয়া তাঁদের একজন। তিনি বললেন, ‘মোগো জীবন কি এই রহমই যাইবে?’ রাত যত বাড়ছিল জোয়ারের তোড় আর জলের উচ্চতাও তত বাড়ছিল। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল উপকূলের মানুষের আতঙ্ক-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

default-image

ডালভাঙার আরেক গৃহবধূ জায়েদা বলছিলেন, ‘হুনছি বইন্না এহনো আয় নায়। হেইতেই পানির এত তোড়। জানি না বইন্নায় কী অইবে!’ বরগুনাসহ দক্ষিণ উপকূলের মানুষের জীবনের সংগ্রামগুলো সত্যি গল্পের মতো লাগে। কিন্তু তাঁরা যে গল্পের বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়েই জীবনকে বেঁধে ফেলছেন, তা দেখা গেল গভীর রাতে, এই জনপদে। তাঁরা জানেন না, এই আতঙ্কের, এই নির্ঘুম রাতের শেষ কোথায়, কোনকালে?

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন