রোমানিয়ায় দালালদের হাতে বন্দী পাঁচ তরুণ হলেন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের মৃত সৈয়দ সালামের ছেলে মো. তানভীর হোসেন (২২), সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বাবুল মাতুব্বরের ছেলে বায়েজিদ মাতুব্বর (২২), মজিবর হাওলাদারের ছেলে রাশেদ হাওলাদার (২৪) ও মৃত তারেক হাওলাদার ছেলে মোফাজ্জেল হাওলাদার (২৩) ও খোয়াজপুর ইউনিয়নের মো. শাজাহান মুনশির ছেলে মিলন মুনশি (২৩)।

এদিকে এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। এতে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। থানায় অভিযোগের পরে প্রধান অভিযুক্ত দালাল আল-আমিনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যান ওই পাঁচ তরুণ। গ্রিস থেকে রোমানিয়া হয়ে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ তরুণের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্রটি। এই চক্রের মূল হোতা মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজিরহাওলা এলাকার জাফর ব্যাপারীর ছেলে আল-আমিন (২৯)। আবার আল-আমিনের সঙ্গে এই চক্রে জড়িত আছেন সদর উপজেলার রাস্তি এলাকার শামিম আকন (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী সুমি বেগম (২৮), একই এলাকার বাসিন্দা সিরাজ আকন (৬০), সদরের হাজিরহাওলা এলাকার জাফর ব্যাপারী (৪০) ও তাঁর স্ত্রী রীনা বেগম (৩০), হাজির হাওলা এলাকার সিরাজ আকনের স্ত্রী রানু বেগম (২৮)। অভিযুক্ত দালালেরা গত ৩ আগস্ট ভুক্তভোগী পাঁচ তরুণের পরিবারে কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নেন। টাকা দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ওই পাঁচ তরুণকে গ্রিস থেকে রোমানিয়ায় নিয়ে যায় চক্রটি। সর্বশেষ রোমানিয়ায় ওই পাঁচ তরুণকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। মুক্তিপণের টাকা না পাঠালে রোমানিয়ায় অবস্থানরত দালালেরা ওই পাঁচ তরুণের ওপর নির্যাতন চালান। নির্যাতনের সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেশে থাকা স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে বলা হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ওই পাঁচ তরুণের পরিবার মাদারীপুর সদর থানায় আসে পুলিশের সহযোগিতা নিতে। পরে পুলিশের পরামর্শে তারা দালালদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা করে। এতে বাদী হন রোমানিয়ায় দালালদের হাতে বন্দী মো. তানভীর হোসেন ভাই সৈয়দ শাহীন। মামলায় ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশে মাদারীপুরের আরও পাঁচ তরুণ অনেক দিন ধরে সার্বিয়ায় দালালদের হাতে বন্দী বলেও উল্লেখ করা হয়।

রোমানিয়ায় বন্দী বায়েজিদ মাতুব্বরের মা মাজেদা বেগম বলেন, ‘দালালরা মাফিয়াদের সাথে হাত মিলায়া আমার পোলারে বন্দী করে রাখছে। আরও ১০ লাখ টাকা না দিলে আমার পোলারে মাইরা ফেলাবে। আমি এহন এত টাকা কই পামু? কে দেবে আমারে টাকা?’

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দালাল আল-আমিনের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘আমি আমার বাবার বাড়িতে আছি। আল-আমিন কার থেকে কী টাকা এনেছে, জানি না।’

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় ১০ বাংলাদেশি বন্দী আছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। তবে রোমানিয়ার পাঁচজন সম্প্রতি দালালদের খপ্পরে পড়ে বন্দী আছেন বলে আমরা জেনেছি।