বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম মোসায়েদ হোসেন এই জেলেদের উদ্ধারকাজের বর্ণনা দেন।

২০ জেলে হলেন মো. নজরুল ইসলাম, মো. তাছিন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. হানিফ, মো. সোহেল, মো. বেল্লাল, মো. আলাউদ্দিন আহমেদ, আবু বকর, মো. মিরাজ, মো. সালাউদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন, মো. সবুজ, মো. হারুন, মো. জামাল, মো. বসর, মো. মোস্তাফিজ, মো. সোলাইমান, মো. আবু জাহের, মো. রিপন ও মো. দেলোয়ার। তাঁদের বয়স ৩৫-৬০ বছরের মধ্যে, সবার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়।

জেলে মো. নজরুল ও মো. মোস্তাফিজ বলেন, খাবার আর পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অনেকটা সময় অভুক্ত ছিলেন। শরীরে বল পাচ্ছিলেন না। ধরেই নিয়েছিলেন মারা যাচ্ছেন। এভাবে বেঁচে ফেরার কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।

এই জেলেদের মধ্যে মো. নজরুল ও মো. মোস্তাফিজ সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের সাগরে ভাসার অভিজ্ঞতা বলেন। তাঁরা বলেন, চরফ্যাশন থেকে গত ৮ ডিসেম্বর ২০ জেলে আবুল কাশেমের এফ বি আল্লার দান নামের ট্রলারটি নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান। ১১ ডিসেম্বর ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। সেই থেকে সাগরে ভাসছিলেন তাঁরা। কূলকিনারাহীন সাগরে হারিয়ে যান তাঁরা, ফুরিয়ে আসে খাবার। গভীর সাগরে চরম সংকটে পড়েন জেলেরা। এভাবে ভাসতে ভাসতে একসময় দেশের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে ভারতীয় অংশে চলে যায় ট্রলারটি। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার না হওয়ায় একসময় বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁরা।

জেলে মো. নজরুল ও মো. মোস্তাফিজ বলেন, আশপাশে কোনো ট্রলার ছিল না। খাবার আর পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অনেকটা সময় অভুক্ত ছিলেন। শরীরে বল পাচ্ছিলেন না। ধরেই নিয়েছিলেন মারা যাচ্ছেন। এভাবে বেঁচে ফেরার কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।

ক্যাপ্টেন এম মোসায়েদ হোসেন বলেন, সাগরে যাওয়ার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ট্রলারটি ফিরে না আসায় এফ বি আল্লার দানের মালিক আবুল কাশেম চরফ্যাশনের কোস্টগার্ড অফিসকে জানান। খবর পেয়ে সাগরে টহলরত কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো ট্রলারটির সন্ধান করে। ভারতীয় কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়। ২৬ ডিসেম্বর ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের জলসীমায় ট্রলারটির অবস্থান নিশ্চিত করে। পরের দিন তারা সংকটাপন্ন অবস্থায় বাংলাদেশি জেলেদের উদ্ধার করে। গতকাল রোববার সাগরের বাংলাদেশ সীমানা পর্যন্ত জেলেদের পৌঁছে দেয় ভারতীয় কোস্টগার্ড। পরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ স্বাধীন বাংলা ওই ২০ জেলেকে মোংলায় নিয়ে আসে।

ক্যাপ্টেন মোসায়েদ বলেন, সাগরে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে তারা একটি এসওএস বার্তা পাঠায়। তবে জেলেদের মাছ ধরার নৌযানগুলোতে তেমন যন্ত্রপাতি নেই। একটি ট্রান্সপন্ডার (বেতার সংকেত) থাকলেও জানা যায় নৌযান কোথায় দুর্ঘটনায় পড়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন