বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান বাদী হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বাকি আসামিরা হলেন ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) মহাখালী কার্যালয়ের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট রিপেয়ার কাম ট্রেনিং ইঞ্জিনিয়ার এ এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস (৬১) ও রাজশাহীর কেশবপুর মোড় এলাকার প্যারাগন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাহেদুল ইসলাম (৩২)।

জানতে চাইলে হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক আবু হাসানুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মনীতি মেনে একাধিক কমিটি গঠন করেই যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। কমিটির আরও সদস্য রয়েছে। এখানে কোনো যন্ত্র কেনায় অস্বাভাবিক দাম নেই। যেহেতু মামলা হয়েছে, আইনগতভাবেই সবকিছু মোকাবিলা করা হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ভেন্টিলেটরসহ একটি অ্যানেসথেসিয়া যন্ত্র কেনা হয়েছে ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। এ রকম দুটি যন্ত্র কিনতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে যে প্রতিষ্ঠান থেকে এই যন্ত্র দুটি কেনা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি যন্ত্রের বাজারদর ১৭ লাখ ১৮ হাজার ২১৫ টাকা। অর্থাৎ দুটি যন্ত্র কিনতে সর্বোচ্চ খরচ হতো ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩০ টাকা। কিন্তু ১ কোটি ৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৭০ টাকা বাড়তি ব্যয় করা হয়েছে।

ট্রান্সকুটেনাস ইলেকট্রিক্যাল নার্ভ স্টিমুলেটর (টেন্স) নামে দুটি যন্ত্র কেনা হয় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু এই যন্ত্রের বাজারমূল্য প্রতিটি ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ইলেকট্রোকোটেরি ইউনিট নামে একটি যন্ত্র ৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়। কিন্তু এই যন্ত্রের বাজারমূল্য ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। দেশের বাজারে প্রতিটি আইআরআর মেশিনের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অথচ তাঁরা এই মেশিন ৬ লাখ টাকায় কেনা দেখিয়েছেন। এমন পাঁচটি যন্ত্র কেনা বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

* মামলার আসামিরা হলেন হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক আবু হাসানুজ্জামান, নিমিউ মহাখালী কার্যালয়ের আব্দুল কুদ্দুস ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহেদুল ইসলাম। * ৭৫০০ মডেলের চারটি পালস অক্সিমিটার কেনা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে। বাজারে একটি যন্ত্র কিনতে খরচ পড়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪০ টাকা।

জাপানের তৈরি ডেন্টাল ইউনিট নামে একটি যন্ত্র কেনা হয়েছে ৪৮ লাখ টাকায়। যার বাজারমূল্য মাত্র ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি ডায়াথারমি যন্ত্র ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেখিয়ে চারটি যন্ত্র ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনা হয়। কিন্তু বাজারে প্রতিটি যন্ত্রের দাম ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৫ টাকা। দুটি টেন্সটেম ইকো বেসিক মডেলের টেন্স কেনা হয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু বাজারে প্রতিটির দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

৭৫০০ মডেলের চারটি পালস অক্সিমিটার কেনা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে। বাজারে একটি যন্ত্র কিনতে খরচ পড়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪০ টাকা। কোরিয়ার তৈরি ইসিজি ১২ চ্যানেল ৫টি যন্ত্র কেনা হয়েছে ৩৯ লাখ টাকা দিয়ে। তবে বাজারে এই একটি যন্ত্র কেনা যায় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। মাল্টিপ্যারামিটার পেশেন্ট মনিটর নামে পাঁচটি যন্ত্র কেনা হয়েছে ৬০ লাখ টাকায়। বাজারে একটি যন্ত্রের দাম ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা দিয়ে ১০ ধরনের ২৬টি যন্ত্র কেনা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় আসামিরা সরকারের ১ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৯৭০ টাকার ক্ষতি করেছেন—এ মর্মে সত্যতা পায় দুদক।

দুদকের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩০ এপ্রিল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক আবু হাসানুজ্জামান মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করেন। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে রাজশাহীর কেশবপুর মোড় এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যারাগন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাহেদুল ইসলাম কার্যাদেশ পান।

কুষ্টিয়ায় দুদকের আইনজীবী আল মুজাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করছেন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেবেন। তিনি যেকোনো সময় আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেন। এ ছাড়া তদন্তে আর কারও যোগসাজশ পেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন