৩০ বছর ধরে সেবা দিয়ে যাওয়া হাসপাতালে আছে নানা সীমাবদ্ধতাও

ঝিনাইদহ ডায়াবেটিস হাসপাতালে সচেতনতামূলক ক্লাসে উপস্থিত রোগীরা
ছবি: প্রথম আলো

সচেতনতা, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও কায়িক পরিশ্রম করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঝিনাইদহ ডায়াবেটিস হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ডায়াবেটিস রোগীদের এভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এই হাসপাতাল থেকে রোগীদের নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা।

আগামীকাল সোমবার ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসেও হাসপাতালটিতে রয়েছে নানা কর্মসূচি। প্রতিদিনের সচেতনতামূলক ক্লাস ছাড়াও থাকছে রোগীদের নিয়ে আলোচনা সভা। সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠানের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠেয় এ সভায় হাসপাতালটির চিকিৎসক ছাড়াও জেলা ডায়াবেটিক সমিতির কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

১৯৯৩ সালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় হাসপাতালটি। ১ একর ১০ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালে রয়েছে ৩০টি শয্যা। বর্তমানে ৮ জন চিকিৎসক নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ৬৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন হাসপাতালে।

রোববার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে ডায়াবেটিস রোগীদের ভিড় দেখা যায়। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শামিম ইসলাম বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০ জন রোগী দেখছেন চিকিৎসকেরা। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকেন ২০ জন রোগী। এই জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরও বলেন, তাঁদের হাসপাতালে সমাজকল্যাণ বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩৫০ জন রোগীর ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিভাগটির প্রধান শামিমা রুখসানা বলেন, ঢাকার বারডেম হাসপাতাল থেকে এসব রোগীর জন্য ইনসুলিন সরবরাহ করা হয়। তাঁরা সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফ্রি করে থাকেন।

হাসপাতালে রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগও। এ বিভাগের প্রধান ফারজানা আইরিন বলেন, প্রতিদিন সকাল পৌনে ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালে আগত রোগীদের সচেতন করতে ক্লাস নেওয়া হয়। তিনি ছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসকেরা এসব ক্লাস নেন। হাসপাতালের বাইরেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় নিয়মিত ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে করা ক্যাম্পে রোগীদের সচেতন করার পাশাপাশি ফ্রি পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। প্রতিবছর কমপক্ষে চারটি ক্যাম্প করেন তাঁরা।

হাসপাতালটির সেবায় রোগীরাও সন্তুষ্ট। তবে কিছু বিষয় আরও সুন্দরভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আমিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসার ব্যবস্থা ভালোই। তবে শৌচাগারগুলো অপরিষ্কার থাকে। অনেক রোগী এখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। সে ক্ষেত্রে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ভালো হয়।

একটু সচেতন হলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও জীবন স্বাভাবিক রাখা যায় উল্লেখ করে হাসপাতালের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম বলেন, তাঁরা রোগী দেখার পাশাপাশি রোগীদের ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ, ডায়াবেটিস রোগীদের সচেতন করতে পারলে এই রোগে মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

৩০ বছর ধরে সেবা দিয়ে যাওয়া হাসপাতালটিতে অর্থের অভাবে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এ হাসপাতালে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। এ কারণে দ্রুত রোগী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনও নেই। ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেশি হওয়ায় মাঝেমধ্যে জায়গা দেওয়া যায় না। এ অবস্থায় ভবনটির আরেকটি তলা নির্মাণ করা প্রয়োজন।

ঝিনাইদহ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। শয্যাও বাড়াতে হবে। এটিকে ১০০ শয্যা করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডায়াবেটিস হাসপাতাল করা জরুরি।