চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়িতে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজের জীবন বাজি রেখে ৩০ শ্রমিককে উদ্ধার করা মো. হানিফকে পুরস্কৃত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। আজ বুধবার বিকেলে সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে হানিফের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।
এ সময় সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আল মামুন ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব উপস্থিত ছিলেন। মো. হানিফ বিএম কনটেইনার ডিপোর দক্ষিণ পাশে পকেট গেটের ধারে একটি চায়ের দোকান চালান।
মো. হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, পুরস্কারের আশায় তিনি উদ্ধারকাজ করেননি। তবু পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা জানানোয় তিনি খুব খুশি হয়েছেন। পুলিশ কমিশনার তাঁকে সাহসী আখ্যা দিয়ে মানবিক কাজের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি উদ্ধারকাজে অংশ না নিলে এমন সম্মান পেতেন না।
সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম আলোয় হানিফের ৩০ জন আহত শ্রমিককে উদ্ধারের খবর দেখে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। এ ধরনের উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে হানিফ যে মানবিকতা ও সাহসিকতা দেখিয়েছেন, সে জন্য তাঁকে সম্মান জানাতে পুলিশ কমিশনার এ পুরস্কার দিয়েছেন।
প্রথম আলোয় হানিফকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেটি নজরে আসে পুলিশ কমিশনারের। এরপর কমিশনারের পক্ষ থেকে হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আজ বিকেলে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে হানিফ উপস্থিত হলে তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। উদ্ধারকাজ ও আহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেওয়ার কারণে তাঁকে ধন্যবাদ জানান পুলিশ কমিশনার।
যেভাবে উদ্ধার হন ৩০ শ্রমিক
প্রতিদিনের মতো গত শনিবার রাতেও হানিফ দোকানে বেচাবিক্রি করছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের পর হতবিহ্বল মানুষ চারদিকে ছোটাছুটি শুরু করেন। বিস্ফোরণে আহত শ্রমিকেরা তাঁর দোকান এলাকায় ইট-সিমেন্ট ও কাঁটাতার দেওয়া উঁচু নিরাপত্তাদেয়াল টপকে পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পোড়া শরীর, ভাঙা হাত-পা আর রক্তঝরা শরীরে দেয়াল পার হতে পারছিলেন না তাঁরা।
হানিফ বলেন, অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ি যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে দোকানের চালায় উঠে আহত শ্রমিকদের উদ্ধারে লেগে যান তিনি। নিজের ছোট্ট শরীর নিয়ে আহত শ্রমিকদের দেয়াল পার করে আনাটা কষ্টসাধ্য হলেও থামেননি তিনি। একে একে পাঁচ শ্রমিককে পার করে আনেন। এরপর স্ত্রী নাছিমা বেগম তাঁর খোঁজ করতে দোকানে আসেন। তখন স্ত্রীকে দিয়ে বাড়ি থেকে একটি কাঠের মই আনান। মই পাওয়ার পর ৪০ মিনিটে আরও ২৫ শ্রমিককে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচান তিনি। পরে আহত শ্রমিকদের অ্যাম্বুলেন্সে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।