বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে খলিলুল্লাহ আজাদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। মামলায় যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। এর আগেও তার নামে থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। অনেক মামলার বাদীকে তিনি চেনেন না।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন–২০১২ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা–২০১৯ অনুযায়ী অনুসন্ধান করে প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের দেওয়া ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তের নামে মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দিনাজপুর শাখায় ১২টি হিসাব নম্বর, মেসার্স সর্দার হাসকিং মিলের নামে ৩টি, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড রংপুর শাখায় মারিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফেটানিং সেন্টারের নামে ১টি, সর্দার হাসকিং মিলের নামে রুপালী ব্যাংক চেহেলগাজী শাখায় ১টি, সোনালী ব্যাংকের ২টি শাখায় ৩টি হিসাব নম্বরে জমা ও উত্তোলন করেছেন। এসব ব্যাংক হিসাব নম্বরগুলোতে ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ ২৯ হাজার ৮১১ টাকা জমা হয়। অভিযুক্ত খলিলুল্লাহ আজাদের মায়ের নামে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দিনাজপুর শাখায় ২০২০ সালে খোলা হিসাব নম্বরে ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৭৭৪ টাকা জমা হয়। বর্তমানে এ টাকার বেশির ভাগের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংক হিসাবগুলোতে যে টাকা আছে, তা খুবই সামান্য।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সখ্য ও যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজি, সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ অর্থ আয় করেছেন খলিলুল্লাহ আজাদ।

দিনাজপুর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত একজন গ্রাহকের এক ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী, একটি চলতি হিসাব থাকতে পারে। খলিলুল্লাহ আজাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ও নিজ নামে এফডিআর, ডিপিএসও রয়েছে। যে কটি হিসাব নম্বর ব্যাংকে খোলা হয়েছে, তা ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী করা হয়েছে।

দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, খলিলুল্লাহ আজাদের নামে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বালুমহাল দখলসহ বিভিন্ন বিষয়ে এর আগেই কয়েকটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান। এর মধ্যে সিআইডি মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা করেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন