বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৮টি জেলায় আগের সপ্তাহের তুলনায় রোগী বৃদ্ধির হার শূন্য শতাংশের নিচে, আর ১০টি জেলায় এই হার শূন্য দশমিক ১ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে। এর বাইরে বাকি ৩৬ জেলায় রোগী বাড়ছে। এসব জেলায় এক সপ্তাহে রোগী বৃদ্ধির হার ২৫ থেকে ১০০ শতাংশের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবারও সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে। ৭ জুন তালিকাটি হালনাগাদ করা হয়। ভারত, পাকিস্তানসহ ৬১টি দেশ আছে এই তালিকায়। এসব দেশে ভ্রমণ একান্ত জরুরি হলে মার্কিন নাগরিকদের আগেই টিকার পূর্ণ ডোজ নিতে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এ সময়ে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেশি বেড়েছে। সীমান্তের কিছু জেলায় পুরোপুরি বা আংশিক লকডাউন দেওয়া হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৫টি জেলায় ৩১ মে থেকে ৬ জুন—এই এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহের (২৪–৩০ মে) তুলনায় রোগী বৃদ্ধির হার ১০০ ভাগ বা তার বেশি ছিল। এগুলোর আটটিই ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা। এর বাইরে আটটি জেলায় রোগী বৃদ্ধির হার ৭৫ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে। এ ছাড়া মাগুরা, নড়াইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পিরোজপুর ও নোয়াখালীতেও এই সময় রোগী বৃদ্ধির হার শতভাগ কিংবা তার চেয়ে বেশি ছিল।

শতভাগ বা তার চেয়ে বেশি হারে রোগী বেড়েছে এমন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, রাজশাহী, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও খাগড়াছড়ি। আর রোগী বৃদ্ধির হার ৭৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ছিল সীমান্তবর্তী জেলা যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, ফেনী, শেরপুর ও কুষ্টিয়া।

দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনার সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে শিথিলতার পরিচয় দিলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার এক অনলাইন বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যতম মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, কোনো জায়গায় শিথিলতার পরিচয় দিলে সেটি ভালো ফল বয়ে আনবে না।

সীমান্তের কিছু জেলায় লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সংক্রমণ কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আশপাশের জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়ছে। যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ লাগোয়া নওগাঁ ও রাজশাহীতে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিলেন চারজন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সাতক্ষীরায় গতকাল শনাক্তের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন হুসাইন সাফায়াত বলেন, শুধু চিকিৎসা দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মানুষ সচেতন হচ্ছে না।

কুষ্টিয়ায়ও সংক্রমণ বাড়ছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁদের হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু।

খুলনায়ও সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপ। সর্বশেষ আট দিনে (১–৮ জুন) এখানে রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর আগের আট দিনে শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ হাজার ৫৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের। গতকাল পর্যন্ত দেশে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮১৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৯ জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ১২ হাজার ৯৪৯ জন।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে নতুন রোগী বাড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কোথাও কোথাও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও দেখা যাচ্ছে, আশপাশের জেলায় সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমলেও রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোরে বাড়ছে। সব মিলিয়ে দেশের সংক্রমণ বাড়তির দিকে। কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আবার খারাপ আকার ধারণ করবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন