বিজ্ঞাপন

সভায় বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বলেন, ‘দক্ষিণ উপকূল দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায়, বিশেষ করে বিভাগের বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা, এই তিন জেলায় অনেক বহুতল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে যাতে তাৎক্ষণিক ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে পারি, সে জন্য প্রায় ৫ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ অথবা বিকল্প ব্যবস্থায় আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘যেহেতু এখন আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছি, সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, জীবাণুনাশক রাখা, সাবানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময় জরুরি মুহূর্তে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা দুরূহ হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অন্তত যাতে প্রতিটি পরিবারের সদস্য এক জায়গায় থাকতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে সকালে থেকে দুপুর অবধি বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলের সর্বত্র কখনো রোদ, কখনো মেঘ—এমন অবস্থা চলছিল। কিন্তু বেলা তিনটার পর আকাশ মেঘলা হয়ে যায়। যদিও তাপমাত্রা কমেনি। বেলা তিনটায় বরিশালের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া বিভাগের ভাষ্যমতে, এটা মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর বাতাসের গতিবেগ ছিল ৫ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে।

বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে গতকাল সকালে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ঘনীভূত হয়ে ২৬ মে ভোর নাগাদ ভারতের উত্তর ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের খুলনা হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পৌঁছাতে পারে।

■ করোনাকালে আশ্রয়কেন্দ্রে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ■ জীবাণুনাশক রাখা, সাবানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. মাসুদ রানা গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, আজ তাপমাত্রার দাপট কমতে শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। যদিও ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানবে বলে পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, তবে ঝড়ের গতিপথ যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।

সাতক্ষীরা উপকূলে মাইকিং

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হানার আশঙ্কায় সাতক্ষীরার উপকূল এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর পক্ষ থেকে লাল পতাকা উড়িয়ে ঝড়ের সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে।

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ভবতোষ মণ্ডল বলেন, ঝড়ের সতর্কবার্তা দিয়ে গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হচ্ছে। গতকাল সকাল ১০টায় ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে বাসিন্দাদের এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা অন্য কোথাও যেতে বলা হয়নি।

শ্যামনগরের ইউএনও আবুজার গিফারি বলেন, সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, এ জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি, মুন্সিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, শ্রীউলা ও আশাশুনি সদরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী, প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের অধিকাংশ কাঁচা ঘর পড়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার অনেক মানুষ তাঁদের বাস্তুভিটায় ফিরতে পারেনি। কেউ কেউ আবার ফিরে খুপরিতে বসবাস করছেন। এ অবস্থায় আবার ঘূর্ণিঝড়ের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন