বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমি আনন্দিত ও অনেক খুশি। আল্লাহর কাছে হাজারো শোকরিয়া। সেই ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম। অবশেষে ৭০ বছর পর মায়ের কাছে ফিরতে পেরেছি।’

আবদুল কুদ্দুস নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জের বাড্ডা গ্রামের মৃত কালু মুন্সীর ছেলে। কুদ্দুসের বয়স যখন ছয়-সাত বছর, তখনই তাঁর বাবা কালু মুন্সী মারা যান। এরপর মা মঙ্গলের নেছা তাঁকে পড়াশোনার জন্য পুলিশ সদস্য ফুফা আবদুল আউয়ালের কাছে রাজশাহীর বাগামারায় পাঠান। ১০ বছর বয়সে ফুফুর বকা খেয়ে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হন আবদুল কুদ্দুস। ঘুরতে ঘুরতে চালে যান নওগাঁর আত্রাইয়ের সিংসাড়া গ্রামে। সেখানে একজন নারীর আশ্রয়ে ছিলেন বেশ কিছুদিন। এরপর চলে যান ওই এলাকারই দুই বোন সুন্দরী ও কপিজানের আশ্রয়ে। তাঁদের যত্নে বেড়ে উঠে আত্রাইয়ের চৌবাড়ি গ্রামে বিয়ে করেন। সংসারে আসে তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে।

৭০ বছর পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে দেখা করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের আশ্রাববাদ গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হন আবদুল কুদ্দুস। গত শনিবার সকাল পৌনে ১২টায় বৃদ্ধ মা মঙ্গলের নেছা (১১০) ও একমাত্র ছোট বোন ঝর্ণা বেগমের সঙ্গে আবদুল কুদ্দুসের দেখা হয়।

তিন দিন মায়ের সঙ্গে থেকে ও জন্মভিটায় সময় কাটিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে বোন ঝর্ণার বাড়ি থেকে শতবর্ষী মা মঙ্গলের নেছাসহ স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নেন কুদ্দুস। সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে সকাল ১০টায় তিনি ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছান। সকাল সাড়ে ১০টায় একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহীর বাগমারার উদ্দেশে রওয়ানা করেন তিনি।

৭০ বছর পর মা-ছেলের এই ঐতিহাসিক মিলনে সহায়তা করা আত্রাইয়ের ব্যবসায়ী খান মো. আইয়ুব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাড্ডা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আপাতত কুদ্দুস মুন্সী রাজশাহীতে ফিরে যাচ্ছেন। তবে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর আবদুল কুদ্দুসের ছোট বোন ঝর্ণাসহ স্বজনেরা বৃদ্ধ মাকে নিয়ে রাজশাহীতে বেড়াতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন