default-image

নরসিংদী পৌরসভার সাবেক মেয়র লোকমান হোসেন ২০১১ সালের ১ নভেম্বর দলীয় কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। এ মামলার সব আসামি এখন জামিনে আছেন।

লোকমান হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আসাদ আলী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাদীর নারাজি আবেদন গ্রহণ করে পুনঃ তদন্ত করা হয়। কিন্তু আদালত শুধু বাদীর জবানবন্দি নিয়ে ওই মামলার পুনঃ তদন্ত শেষ করেন। তাই আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করেছি। বর্তমানে তা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত লোকমান হোসেনের ছোট ভাই ২০১১ সালের ৩ নভেম্বর নরসিংদী পৌরসভার বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। এই মামলার প্রধান আসামি করা হয় তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মন্ডল। তিনি প্রায় ৮ মাস তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৪ জুন মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে নতুন ৯ জনসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী কামরুজ্জামান।

দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর ২০১৯ সালের শুরুর দিকে উচ্চ আদালত ওই নারাজি আবেদন আমলে নিয়ে তা পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু পুনঃ তদন্তে শুধু বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্ত শেষ করেন আদালত। এ ঘটনায় মামলার বাদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করেছেন, যা শুনানির অপেক্ষায়।

যত দিন পর্যন্ত প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় না আনা হবে, তত দিন আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
কামরুজ্জামান, লোকমান হোসেন হত্যা মামলার বাদী ও নরসিংদী পৌরসভার মেয়র

মামলার বাদী ও নরসিংদী পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি সঠিক ছিল না। সেখানে অভিযুক্ত ১৪ আসামির মধ্যে ১১ আসামিকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল। যত দিন পর্যন্ত প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় না আনা হবে, তত দিন আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

লোকমান হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নরসিংদী শহরজুড়ে ১৪ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে জনবন্ধু লোকমান হোসেন ফাউন্ডেশন। এই উপলক্ষে আজ রোববার সকালে মেয়র লোকমান হোসেনের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নরসিংদীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পরে নরসিংদী পৌর বাস টার্মিনালসহ পৌর শহরের ৭১টি স্থানে আলোচনা, দোয়া ও গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে লোকমান হোসেনের কর্মময় জীবন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0