তিন চাকার যানবাহনের চালকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা মনীষা চক্রবর্তী। তাঁর নেতৃত্বে বরিশালে গড়ে তোলা হয় রিকশা, অটোরিকশা-ভ্যান-ইজিবাইকচালক সংগ্রাম পরিষদ বরিশাল জেলা কমিটি। তিনি ওই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বরিশাল জেলা মিশুক, বেবিট্যাক্সি, ট্যাক্সিকার ও সিএনজি চালক–শ্রমিক ইউনিয়নের নামে তিন চাকার যানের যে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে, এর সঙ্গে সাধারণ কোনো শ্রমিক-চালকের সম্পর্ক নেই। আমরা মনে করি, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে ডাকা হয়েছে। কারণ, ওই সংগঠনকে কোনো দিনও তিন চাকার যানের শ্রমিকদের দাবিদাওয়ার বাস্তবায়নের আন্দোলনে পাওয়া যায়নি। সংগঠনটি এখন বিশেষ উদ্দেশ্যে সক্রিয় হয়েছে।’

গতকাল রাতে বরিশাল জেলা মিশুক, বেবিট্যাক্সি, টেক্সিকার ও সিএনজি চালক–শ্রমিক ইউনিয়নের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বরিশাল বাসমালিক-শ্রমিকদের হাতে তিন চাকার যানের চালকদের হয়রানি বন্ধ, মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন চাকার যানের নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, মেট্রোপলিটন এলাকার সর্বত্র তিন চাকার যান চলাচলের অনুমতি, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর তিন চাকার যানের ভাড়ার চার্ট প্রদান ও সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে ৪ ও ৫ নভেম্বর ডিজেল, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত সব ধরনের তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

এদিকে ধর্মঘট আহ্বানের পর আজ সোমবার সকালে নগরের অন্তত ১০ জন তিন চাকার যানের চালকের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তাঁরা বলেন, এই ধর্মঘটের ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানেন না। কারা ধর্মঘট ডেকেছে, কী কারণে ডেকেছে, সে ব্যাপারেও কেউ আলাপ করেনি। শুধু লোকমুখে তাঁরা শুনেছেন, ৪ ও ৫ নভেম্বর তাঁদের গাড়ি চলবে না।

এর আগে গত মঙ্গলবার বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম মাসরেক ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বাস মালিক সমিতির নেতারা তাঁদের দাবি আদায়ে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ৪-৫ নভেম্বর বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ও অভ্যন্তরীণ বাস টার্মিনাল রূপাতলী থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বরিশালে বিএনপির গণসমাবেশ হবে ৫ নভেম্বর। এ জন্য নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এ সমাবেশ করার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি চেয়ে পৃথক আবেদন করেছে মহানগর বিএনপি। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে বাস ও তিন চাকার যানের ধর্মঘটের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধের পর এখন তিন চাকার যানও বন্ধ করা হলো। এরপর একে একে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ, রিকশা, খেয়ানৌকাও বন্ধ করবে; এটা ধরে নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। এটা করা হবে, সেটাও আমরা নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু জনগণকে ঠেকানো যায়নি, যাবেও না। মানুষ সাঁতরে হলেও গণসমাবেশে যোগ দেবে।’

তবে বরিশাল জেলা মিশুক, বেবিট্যাক্সি, টেক্সিকার ও সিএনজি চালক–শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘যেহেতু বাসমালিকেরা আমাদের যানবাহন বন্ধের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, সেই কারণে আমরা তার প্রতিবাদে ধর্মঘট ডেকেছি। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’