কেন্দুয়ার ইউএনওকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া ও সংবাদ সম্মেলনে ‘অসংলগ্ন কথাবার্তা’ বলার অভিযোগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা খাতুনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এই নোটিশ দেওয়া হয়।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ইউএনও মাহমুদা খাতুনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
স্থানীয় বাসিন্দা, ইউএনওর কার্যালয় ও থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বলাইশিমুল গ্রামের ১ একর ৮৭ শতক সরকারি জায়গায় শত বছরের পুরোনো খেলার মাঠ রয়েছে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২–এর আওতায় ওই মাঠের তিন পাশে উপজেলা প্রশাসন ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ২৪টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। মাঠ রক্ষার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ওই কাজে বাধা দেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন সিদ্ধান্তে অটল থেকে মাঠের ৪৬ শতক জায়গা ‘কান্দা’ শ্রেণিতে পরিবর্তন করে ২৮ মে থেকে নির্মাণকাজ শুরু করে।
প্রতিবাদে আন্দোলনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিদের পক্ষে হাবিবুর রহমান মণ্ডলসহ আটজন বাদী হয়ে গত ৩০ মে আদালতে একটি মামলা করেন। এর মধ্যে গত ২ জুন রাতের আঁধারে দুটি নির্মাণাধীন ঘরের গাঁথুনি ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরদিন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী বাদী হয়ে ১৯ জনের নামে মামলা করেন। এরপর সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারায় ঘর নির্মাণকাজ চলে। স্থানীয় ব্যক্তিদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. শফিকুর রেজা বিশ্বাস ও জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখান থেকে ১১টি ঘর বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠে মাটি ফেলে খেলার উপযোগী করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত শনিবার ভোর চারটার দিকে দুটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৬৩ জনের নামোল্লেখ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন। পরদিন শনিবার বিকেলে ইউএনও মাহমুদা বেগম উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি আগুন দেওয়ার ঘটনার পেছনে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। বলাইশিমুল ইউনিয়নের সবার বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করারও হুমকি দেন তিনি।
ওই সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন দৈনিক সংবাদ ও ডেইলি অবজারভারের কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন কবীর। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ফেসবুকে দেওয়ায় ইউএনও মাহমুদা খাতুন ফোন করে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়ূন কবীর।