সিলেটে নির্বাচনের আগের দিন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জামায়াত-বিএনপির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন সিলেটে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছে বিএনপি ও জামায়াত। আজ বুধবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে দল দুটির পক্ষ থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে।
বেলা সোয়া তিনটার দিকে মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঙ্গে দেখা করে। এ সময় প্রতিনিধিদলটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জেলার বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে। সাক্ষাৎ শেষে জামায়াত নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সিলেট-১ (মহানগর) আসনে জামায়াতের এজেন্ট ও কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হুমকিদাতারা মূলত চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দাঙ্গাবাজ হিসেবে পরিচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে আগের অনেক মামলা আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়েও তারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিল।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনী প্রচারে নামানোর চেষ্টাও চালানো হয়েছে বলে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দাবি করেন। তিনি বলেন, যুবলীগ ও বিএনপির কিছু নেতা, যাঁরা মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা অবৈধভাবে সাংবাদিকদের দেওয়া পাসকার্ড সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।
ইতিমধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা দুজনের পাসকার্ড বাতিল করেছেন জানিয়ে মহানগর জামায়াতের আমির বলেন, কেবল নিবন্ধিত ও প্রকৃত সাংবাদিকদেরই যেন কার্ড দেওয়া হয়।
সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বোরকাসংক্রান্ত সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের বিষয়েও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জামায়াতের প্রতিনিধিদলটি অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী বোরকা পরা নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। ওই প্রার্থী বলেছেন, বোরকা পরে কোনো নারী ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না এবং গেলেও তাঁকে বোরকা খুলতে হবে। আরিফুল হক চৌধুরীর এমন বক্তব্য ইসলাম ধর্ম ও পর্দানশিন নারীদের প্রতি অবমাননা।
জামায়াতের প্রতিনিধিদলটি চলে যাওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলেন, জামায়াত বোরকাসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পর আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াত রং মেসেজ দিচ্ছে। আমি এভাবে বলিনি। আমি কখনো বলিনি যে আমার আসনের নারী ভোটারদের বোরকা খুলে আসতে হবে। বরং বলেছি, যাতে তাঁদের মুখটা চেনা চায়, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে।’
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনী কর্মকর্তা যাঁরা থাকবেন, তাঁরা যাতে মুখমণ্ডলটা দেখেন, সেটাই নিশ্চিত করার কথা বলেছি আমি। এটাকে অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় একজন বিখ্যাত আলেমের কণ্ঠ ব্যবহার করে একটি বক্তব্য দেওয়া হয়েছে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি ভিডিও বক্তব্যে জানিয়েছেন, এটা তাঁর বক্তব্য নয়। এমনটাই হচ্ছে।’ সিলেট-৪ আসনের নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি মা-বোনদের উদ্দেশে জানাচ্ছি, আমিও একজন মুসলিম। কোনো মুসলিমই পর্দার বিরোধিতা করে না। আপনারা এসব উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যে বিভ্রান্ত হবেন না।’
জামায়াতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজের সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে অসত্য অভিযোগ করেছে। বিভিন্ন আসনে প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উল্টো অভিযোগ করছে।