গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী লন্ডনে, পোলিং এজেন্ট নিয়োগেও আপত্তি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার আংশিক) আসনে গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন আবুল বাশার। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাঁর পক্ষে দলের নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর তা বৈধও হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর পক্ষে কোনো নির্বাচনী প্রচারণাও হয়নি। এবার ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগেও নিজের আপত্তির কথা জানালেন তিনি।
গণ অধিকার পরিষদের রায়পুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী প্রথম আলোকে জানান, আবুল বাশার বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাঁর দেশে আসার কথা থাকলেও পরে তিনি সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ফলে এলাকায় তাঁর কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম হয়নি।
৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তিন দিন আগে নিজের ফেসবুক পেজে আবুল বাশার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে তাঁর প্রার্থী হওয়া দলীয় সিদ্ধান্ত। তিনি ট্রাক প্রতীকে ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ করছেন না। কোনো দলকে সমর্থনও দিচ্ছেন না। উক্ত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীক ব্যবহার করে এবং তাঁর সই নকল করে বেআইনিভাবে এজেন্ট নিয়োগ করলে এর দায়ভার তিনি নেবেন না।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবুল বাশারের মনোনয়নপত্র জমা পড়ে এবং বাছাই শেষে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে প্রার্থী দেশের বাইরে থাকায় এলাকায় তাঁর সরাসরি কোনো নির্বাচনী তৎপরতা চোখে পড়েনি।
রায়পুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার ও গণসংযোগ থাকলেও আবুল বাশারের পক্ষে দৃশ্যমান কোনো প্রচারণা নেই। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ জানান, তাঁরা এখনো এ প্রার্থীর বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না।
রায়পুর পৌর এলাকার আবদুর রাজ্জাক বলেন, নির্বাচন এলে প্রার্থীরা এলাকায় আসেন, মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু এই প্রার্থীর নামও অনেকেই শোনেননি।
বিষয়টি নিয়ে আবুল বাশারের ব্যক্তিগত বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট-সংক্রান্ত যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, সেটি তিনি দেখেছেন। প্রার্থীর উত্থাপিত দাবিটি যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।