চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম জাহেদুল ইসলাম (৩৫)। তিনি ‘পিচ্চি জাহেদ’ নামে পরিচিত। তাঁর বাড়ি সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের পাঁচঘরিয়াপাড়া এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে একটি গ্রামীণ সড়ক ধরে নিজের বাড়িতে যাচ্ছিলেন জাহেদুল। মোটরসাইকেলের পেছনে ওয়াহিদ নামে তাঁর এক বন্ধু বসা ছিলেন। ফরিদ সওদাগরের দোকান এলাকায় ছয়-সাতজন দুর্বৃত্ত গাছের গুঁড়ি ফেলে তাঁর মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। এরপর তাঁকে সড়কে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্বৃত্তদের হামলায় ওয়াহিদও আহত হন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চলতি বছরের শুরুতে সাতকানিয়ার পুরানগড় এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জাহেদ। পরে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
পুলিশ জানায়, জাহেদ দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম নগরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখা, মাদকের কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ প্রথমে তাঁকে চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছিল। পরে তদন্ত করে জানতে পারে নগরের তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে নামের মিল থাকলেও তিনি সেই ব্যক্তি নন।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আজ সোমবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর জাহেদুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জড়িতদের কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’