দুই মাস অসুস্থ থাকার পর অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সিংহী টুম্পা মারা গেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটায় সিংহীটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর সিংহীটির লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল বলেন, সাফারি পার্কে সিংহ রাসেল ও টুম্পা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। গত ১০ জানুয়ারি তাদের চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। চিকিৎসক দলের পরামর্শ অনুযায়ী, সিংহ দুটির চিকিৎসা চলছিল। ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ রাসেল মারা যায়। এর ২০ দিন পর আজ সকালে সিংহী টুম্পারও মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত রোগে রাসেল ও টুম্পা অসুস্থ ছিল। তারা ভাই-বোন ছিল। তারা সিংহ দম্পতি সোহেল ও হীরার সন্তান।
মৃত্যুর পর টুম্পার ময়নাতদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইন ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. মোস্তাকিম বিল্লাহ। হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইন প্রথম আলোকে বলেন, বেবিসিয়া নামের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিংহী টুম্পার মৃত্যু হয়। রক্তের মধ্যে জীবাণু ঢুকে রক্তকণিকা ভেঙে ফেললে এ রোগের সৃষ্টি হয়। ময়নাতদন্তের পর সিংহীকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শুরুতে পার্কে পাঁচটি সিংহ ছিল। এর মধ্যে রাসেল ও টুম্পা ২০ দিনের ব্যবধানে মারা যায়। তমা, জবা ও সম্রাট নামের তিনটি সিংহ খাঁচায় আছে। সিংহ রাসেলের বয়স হয়েছিল ১৬ বছর আর টুম্পার ১৫ বছর। প্রকৃতিতে সিংহের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৮ থেকে ১০ বছর এবং আবদ্ধ অবস্থায় স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ১৬ থেকে ২০ বছর। সে ক্ষেত্রে সিংহ দুটির আয়ুষ্কাল প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল বলে মনে করছেন বন কর্মকর্তারা।