কালভার্ট ধসে খালে, যান চলাচল বন্ধ দুই দিন

২০১৭-১৮ অর্থবছরে উপজেলার বরদিয়া শোভনকর্দী সড়কের মতলব-বাবুরহাট খালের ওপর কালভার্টটি নির্মিত হয়।

গতকাল চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার শোভনকর্দী-বরদিয়া এলাকায়
প্রথম আলো

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বরদিয়া-শোভনকর্দী সড়কের মাঝখানে মতলব-বাবুরহাট খালের ওপর নির্মিত একটি কালভার্টের পুরো অংশ ধসে গত শনিবার খালের পানিতে পড়ে গেছে। এতে দুই দিন ধরে ওই পথে যান ও মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পানির স্রোতে পিলার ও সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় কালভার্টটি ধসে পড়েছে। তবে একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ, কালভার্টটি নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ায় অল্প সময়ে এটি ধসে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার বরদিয়া-শোভনকর্দী সড়কের মতলব-বাবুরহাট খালের ওপর ২০ ফুট দীর্ঘ ও ১২ ফুট চওড়া কালভার্টটি নির্মিত হয়। পিআইওর কার্যালয় ওই নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। এতে ব্যয় হয় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩০ টাকা। স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজটির দেখভাল করে। ২০১৯ সালের ১০ মে কালভার্টটি উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন রুহুল।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ওই এলাকায় দেখা যায়, সেখানকার কালভার্টটি ধসে খালের পানিতে পড়ে আছে। এর সব কটি পিলার ও এক পাশের রেলিং দেবে পানিতে তলিয়ে আছে। এর সংযোগ সড়কের মাটিও ধসে পড়েছে। পাশের বসতবাড়িগুলো খালের পানিতে ধসে পড়ার হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয় মানুষ ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে না। অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান, ট্রাক, মিনিট্রাক, মিনিবাসসহ ছোট ও মাঝারি আকারের যানবাহন চলাচলও বন্ধ। মালামাল ও পণ্য পরিবহনে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কালভার্টটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

মতলব পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ওয়াজ উদ্দিন প্রধান বলেন, কালভার্টটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বরদিয়া-শোভনকর্দী সড়কের ওপর নির্মিত এ কালভার্টের ওপর দিয়ে উদ্দমদী, শোভনকর্দী, মোবারকদি, বরদিয়া, নবকলস, ঢাকিরগাঁও, শীলমন্দিসহ ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।

এসব এলাকা থেকে চাঁদপুর জেলা শহর, মতলব দক্ষিণ, হাজীগঞ্জ উপজেলা শহরসহ আশপাশের আরও কয়েকটি উপজেলা শহরে কম সময়ে যাওয়ার সহজ, সাশ্রয়ী ও একমাত্র মাধ্যম ওই সড়কপথ। কালভার্টটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ যানবাহন চলাচল করে। এটি ধসে পড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।

পিআইও মো. রবিউল ইসলাম দাবি করেন, কালভার্টটি নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। দরপত্রের নিয়ম মেনে ও যথাযথভাবে সেটি নির্মিত হয়েছে। এতে কারিগরি বা প্রকৌশলগত ত্রুটি নেই। পানির স্রোতে পিলার ও সংযোগ সড়কের মাটি কয়েক ফুট সরে যাওয়ায় এটি ধসে পড়েছে। খালের পানি না কমলে এটি মেরামত করা যাবে না।