এর আগে শনিবার বিকেল চারটার দিকে রায়পুরার মির্জারচর ইউনিয়নের শান্তিপুর বাজারে গুলি করে হত্যা করা হয় জাফর ইকবালকে (৫০)। তিনি রায়পুরার মির্জারচর ইউনিয়নের বালুরচর এলাকার মৃত মোতালিব ফকিরের ছেলে এবং মির্জারচর ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতিও ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, জাফর ইকবালকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরদিন রোববার আশরাফুল হকের সমর্থক বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল মিয়াকে আটক করে নরসিংদীর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১)।

আশরাফুল হকের সমর্থকদের ধারণা, বাবুল মিয়াকে আটকে বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল হাসান গ্রুপের হাত রয়েছে। এ কারণে বাবুল মিয়ার চাচা আবদুল লতিব আলী ও আমির হোসেনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল মঙ্গলবার দুপুরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চান্দেরকান্দি গ্রামের রাতুল হাসানের এক সমর্থকের বাড়িতে হামলা করেন ও গুলি চালান।

এ সময় রাতুল হাসানের সমর্থকেরাও তাঁদের ওপর গুলি চালান। এতে আমির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। উদ্ধার করে তাঁকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেন সঙ্গে থাকা লোকজন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা তাজরিন আক্তার বলেন, গুলিবিদ্ধ তরুণকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আমির হোসেনের বড় বোন সাহিদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাইয়ের কপাল, ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলি লেগেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে ইউপি চেয়ারম্যান রাতুল হাসান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে সন্ধ্যায় রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাঁশগাড়ীতে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনেছি। আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’