সাবেকুন বলেন, মা-বাবা, ভাই-বোন মিলে সাতজনের সংসার ছিল তাঁদের। বাবা ছোট একটা ব্যবসা করতেন। ২০০২ সালে এসএসসির ফল বের হতে না হতেই নীলফামারীর ডিমলা এলাকার মো.আসাদুজ্জামানকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকেই আসাদুজ্জামান স্ত্রী সাবেকুনের কাছে টাকা দাবি করতে শুরু করেন। টাকা না দিলে চলত বেধড়ক মারধর। ২০০৩ সালে তাঁদের মেয়ে হয়। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেন আসাদুজ্জামান।

স্বামীর বাড়ি ছাড়ার পর মেয়ের ভবিষ্যতের চিন্তা তাঁকে নাড়া দেয়। একসময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে হাঁস-মুরগির টিকা দেওয়ার ওপর প্রশিক্ষণ নেন সাবেকুন। প্রতিটি হাঁস-মুরগির টিকার বিনিময়ে পেতেন এক টাকা। এর একপর্যায়ে গ্রামীণ শক্তির বন্ধু চুলা কর্মসূচিতে কাজ শুরু করেন সাবেকুন। সেই কাজ শেষে ২০১৫ সালে তিনি স্যানিটেশন সামগ্রী তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। আর তাঁর মেয়ে আসমাউল হুসনা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

সাবেকুন বলেন, ‘নিজের জীবন থেকে দেখেছি, অন্যের ওপর নির্ভরশীল হলে সংসারে দাম পাওয়া যায় না। নারীদের লেখাপড়া করতে হবে। আমি চাই, প্রত্যেক নারী যেন স্বাবলম্বী হন, পরিবারে ও সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে শেখেন।’

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ২৩৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা রয়েছে ৯১টি, নারী অপহরণ ৬০টি, যৌনপীড়ন ৪৯টি আর যৌতুকের মামলা হয়েছে ৩৯টি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পুলিশ নারী নির্যাতন রোধে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরও পারিবারিক নির্যাতন নিরসনে কাজ করে। চলতি বছরে এই দপ্তরে ৪৭টি অভিযোগ এসেছে।

অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপপরিচালক জিন্নাতারা ইয়াছমিন বলেন, যাঁরা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন, তাঁদের ‘জয়িতা’ পুরস্কার দেওয়া হয়। সাবেকুন নাহার তেমনই একজন নারী।