গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেওয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ও অফিস সহকারী মমতাজ বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার পৃথক আদেশে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়রুল আলম সেখ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে চকরিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ মো. নুরুল বাসির স্বাক্ষরিত আদেশে মমতাজ বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে বরখাস্ত থাকাকালে মমতাজ বেগমকে নিয়মিত কর্মস্থলে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মমতাজ বেগম ঘুষ নিচ্ছেন, এমন একটি ৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ২৮ এপ্রিল প্রথম আলো অনলাইনে ‘৮০ হাজার দেওয়ার কথা ছিল, ৪০ হাজার দিয়েছে’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মমতাজ বেগমের ডেস্কের সামনে হারবাং ইউনিয়নের মধ্যম পহরচাঁদা এতিমখানার সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও আরেকজন লোক বসে আছেন। এমন সময় আরেকজন মধ্যবয়স্ক নারী তাঁর কক্ষে ঢোকেন। একপর্যায়ে মমতাজ বেগম তাঁর চেয়ার থেকে উঠে ইশারায় রফিকুল ইসলামকে পাশের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা হয়। এ সময় মমতাজ বেগমকে রফিকুল তাঁর পকেট থেকে বের করে এক হাজার টাকার নোটের একটি বান্ডিল দেন।
টাকার বান্ডিল পাওয়ার পর মমতাজ বেগম জানতে চান, ‘এখানে কত দিয়েছেন?’ তখন ওই ব্যক্তি গুনে নিতে বললে মমতাজ টাকাগুলো গুনতে থাকেন। ওই সময় রফিকুল বলেন, ‘আমি টাকা তুলতে পারিনি। অনেক কষ্ট করে টাকা এনেছি। প্রথম কিস্তির বরাদ্দ বাবদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা তুলতে পারিনি।’ তখন মমতাজ বেগম রফিকুলকে বলেন, ‘আপনি ঠকে যাবেন। আপনার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।’ রফিকুল অনুরোধ করে বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকলে টাকা পাবেন।’ টাকা গোনা শেষে মমতাজ বেগম সমাজসেবা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনকে ফোন করে বলেন, ‘স্যার, রফিক মেম্বার ৮০ হাজার দেওয়ার কথা ছিল, ৪০ হাজার দিয়েছে। স্যার, এক মাস পর আবার বিল আছে, তখন কেটে রাখতে হবে।’
চকরিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ও অফিস সহকারী মমতাজ বেগমকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হাসান মাসুদ নিশ্চিত করেছেন।