কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

মামলার আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া পৌর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক হাসিব কোরাইশি, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শেখ সজীব, মীর অভি, অনিক আহম্মেদ, ফেরদৌস মাহমুদ, নাজমুল শাকিব, রাতুল, সাইদ আহম্মেদ, জীবন, রাজন, মনা, প্রত্যয় মাহামুদ, মানিক, শোভন, রনি ইসলাম ও হারুন ফয়সাল। তাঁরা প্রত্যেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

মামলার প্রধান আসামি হাসিব কোরাইশি প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার ঘটনার সময় তিনি শেখ হাফিজকে আগলে রেখে রক্ষা করেন। তিনি তাঁকে মারধর করেননি। বরং যাঁরা তাঁকে মারতে উদ্যত হন, তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। ভিডিও চিত্রে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেটা দেখেছেন। এরপরও হাফিজ যদি তাঁকে ১ নম্বর আসামি করেন, তাহলে তাঁর কিছুই বলার নেই। আইন আইনের গতিতে চলবে। তিনি আইনের ওপর শ্রদ্ধাশীল বলে জানান।

মামলার আরেক আসামি শেখ সজীব বলেন, ওই বাসায় তাঁকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর করেছেন।

মামলার এজাহারে হাফিজ উল্লেখ করেন, তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। আসামিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। এ জন্য তিনি পিটিআই সড়কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ির বিপরীতে তাঁর খালার বাসায় যান। সেখানে আসামিরা গিয়ে তাঁকে মারধর করে জখম করেন এবং তাঁর খালাতো বোনকে শ্লীলতাহানি করেন। আসামিরা তাঁর মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তাঁকে মারতে মারতে হানিফের বাড়ির সামনে সড়কে নিয়ে যান এবং সেখানে আবার মারধর করেন।

এদিকে গতকাল রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শেখ হাফিজ। তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কে শেখ হাফিজকে তাঁর খালার বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর খালাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।