পুলিশ দেখে জুয়ার আসর থেকে দৌড়, ছয় দিন পর ‘কঙ্কাল’ উদ্ধার

জিয়াউর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ আসার খবরে জুয়ার আসর থেকে দিগ্‌বিদিক ছুটে পালিয়েছিলেন পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমান (৪৭)। গত শনিবারের ওই ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ঘটনার ছয় দিন পর বুধবার রাতে উপজেলার যমুনার চর এলাকার আগবাগশোয়া গ্রামের একটি খাল থেকে তাঁর ‘কঙ্কাল’ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই জায়গায় জুয়ার আসরটি বসেছিল।

জিয়াউরের স্বজনদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর কাছে এক্সকাভেটর মেশিন (ভেকু) বিক্রির ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকার জন্য তাঁকে হত্যা করা হতে পারে।

এদিকে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র ছয় দিনে একজন মানুষ কীভাবে কঙ্কালে পরিণত হতে পারেন, তা নিয়ে পুলিশ, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী হতবাক হয়েছেন। বস্তায় মোড়ানো কঙ্কালের পাশে নিখোঁজ জিয়াউরের পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে স্বজনেরা তাঁকে শনাক্ত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ কঙ্কালটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করলে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেড়া উপজেলার যমুনার চরে চরসাফুল্লাপুর গ্রামের জয়বাংলা বাজারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসে। দূরদূরান্ত থেকে জুয়াড়িরা লাখ লাখ টাকা নিয়ে সেখানে জুয়া খেলতে যান। ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুলিশ ওই জায়গায় অভিযান চালায়। পুলিশের নৌকা দেখে জুয়াড়িরা যে যাঁর মতো পালিয়ে যান। ওই সময় জিয়াউর রহমানও একদিকে ছুটে পালিয়ে যান। কিন্তু এর পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই আজাদ কাজী আমিনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর গত বুধবার সন্ধ্যার পর জুয়ার আসর বসা জায়গার কাছে একটি খাল থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পাশে জিয়াউরের পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি পড়ে ছিল। বিভিন্ন আলামত দেখে স্বজনেরা কঙ্কালটি জিয়াউরের বলে শনাক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে স্থান থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়েছে, জুয়াড়িরা পালানোর সময় সেখানে তাঁদের ৩০ হাজার টাকা পড়ে গিয়েছিল। খালের ওই জায়গায় স্থানীয় মানুষেরা তিন-চার দিন ধরে সেই টাকা খুঁজেছেন। ২০ হাজারের বেশি টাকাও পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এত মানুষ যেখানে কয়েক দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করে টাকা ছাড়া কিছু পাননি, সেখানে হঠাৎ কঙ্কালের বস্তা এল কীভাবে। তাঁদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা জিয়াউরকে অন্য কোথাও হত্যা করে লাশ কঙ্কালে পরিণত করার পর সেখানে ফেলে যায়।

জিয়াউর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন ও চাচা আজম কাজী বলেন, কয়েক দিন আগে জিয়াউর রহমান তাঁর পুরোনো এক্সকাভেটর মেশিনটি বিক্রি করে দেন। মেশিন বিক্রির টাকা থেকে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে জানতে পারেন, পুলিশের তাড়া খেয়ে জিয়াউর নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, টাকার জন্য জিয়াউরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। রহিমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এখন কীভাবে সংসার চলবে, ভেবে পাচ্ছেন না।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাদিউল ইসলাম বলেন, ওই দিন পুলিশ কাউকে ধাওয়া করেনি। জুয়ার আসর বসার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। দূর থেকে পুলিশের নৌকা দেখে জুয়াড়িরা পালিয়ে যান। নিখোঁজ জিয়াউরের কঙ্কালে রূপ নেওয়া লাশ উদ্ধারের বিষয়টি রহস্যজনক। কারণ, ২১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর মারা গেলে মাত্র ছয় দিনে একটি লাশ কঙ্কালে পরিণত হওয়া অস্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে কোনো দাহ্য বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।