চিকিৎসার জন্য সুমাইয়া এখন একা ভারতের ভেলোরে অবস্থান করছেন। মুঠোফোনে সুমাইয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর চাচাতো ভাইদের সঙ্গে এলাকার লোকজনের বিরোধ ছিল। বিরোধীদের ফাঁসাতে তাঁর চাচাতো ভাইয়েরাই তাঁর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। এর পর থেকে দগ্ধ শরীর নিয়ে অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি। পরে এলাকার প্রভাবশালী লোকজনের চাপে তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহনের জন্য তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা সাত লাখ টাকা দেন। তবে ওই টাকা থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা করতেই তাঁর বাবা অনেক টাকা খরচ করেন। এ ছাড়া ওই টাকার একটি অংশ স্থানীয় লোকজনও ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে দাবি করেন সুমাইয়া।

প্রায় তিন মাস আগে মা-বাবার সঙ্গে সুমাইয়া ভারতে যান। এরপর ভেলোর সিএসসি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে যাওয়ার তিন সপ্তাহ পরই টাকা সংগ্রহের কথা বলে তাঁর বাবা দেশে ফিরে আসেন। চার দিন আগে তাঁর মা তাসলিমা বেগমও তাঁকে হাসপাতালে ফেলে বাংলাদেশে চলে এসেছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমাইয়া বলেন, এখন তিনি ভারতে একা পড়ে আছেন। তাঁর পাশে কেউ নেই। হাসপাতালে ৮০ হাজার রুপি বকেয়া। হাসপাতালসংলগ্ন একটি বাড়িতে আপাতত ভাড়া থাকছেন। তবে টাকাপয়সা না থাকায় তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে আছে। ওষুধ কেনার মতো টাকাও নেই তাঁর কাছে। সারা শরীরের পোড়া যন্ত্রণা নিয়ে ছটফট করছেন। কিন্তু চিকিৎসা কীভাবে করবেন, কিংবা দেশে ফিরে আসবেন কীভাবে, সেসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

সুমাইয়ার বাবা রাজা মিয়া বলেন, টাকা না থাকায় তিনি দেশে চলে এসেছেন। এখনো টাকা জোগাড় করতে পারেননি তিনি। এ ছাড়া তাঁর ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। মেয়েকে একা ফেলে তাঁর স্ত্রী কেন চলে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, সুমাইয়ার ঘটনাটি খুবই অমানবিক। গতকাল দুপুরে সুমাইয়া হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে তাঁর সমস্যার কথাগুলো জানিয়েছেন। পুরো ভিডিওতে সুমাইয়া শুধু কান্না করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সুমাইয়ার বাবার সঙ্গে কথা বলা হবে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুলিশ দেখছে বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, সুমাইয়া ও তাঁর ভাইয়ের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনার পরদিনই থানায় মামলা হয়েছিল। মূলত প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। দগ্ধ সুমাইয়া আসামিদের শনাক্ত করার পর পুলিশ সুমাইয়ার এক চাচাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করেছিল। এ ছাড়া মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ একই বছরের ১৫ অক্টোবর রাসেল গাজী, তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগম ও এনায়েত গাজীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।