লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত ব্যক্তির বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
মেহেদী হাসান ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র ছিল। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ লোকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল বুধবার বিকেলে মেহেদীর মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান থানার সামনে নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে মেহেদীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একই দিন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নান। বিবৃতিতে মেহেদীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় আজ দুপুরে বিচারের দাবিতে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পরে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।