আজ বৃহস্পতিবার নাঈমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাজিরখিল এলাকায় যান তার মা-বাবা। আয়োজন করেন মিলাদের। গত বছরের ২৫ নভেম্বর রামগঞ্জে নাঈমকে দাফন করা হয়। তার বাবা শাহ আলম ঢাকার নীলক্ষেতে বইয়ের ব্যবসা করেন। শাহ আলম কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

নাঈমের মামা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফারুক আহম্মদ ও মা মোসাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদাউস ১৭ নভেম্বর মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা গুলিস্তানে নাঈমের নামে পদচারী–সেতু স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানান। এর আগে একই দাবিতে নাঈমের মামা ও তার পরিবার তিনবার মেয়রের সঙ্গে দেখা করেন। ঘটনার পর মেয়র নিজে কামরাঙ্গীরচরের বাসায় গিয়ে নাঈমের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন।

ফারুক আহম্মদ আজ প্রথম আলোকে বলেন, গুলিস্তানে নাঈমের নামে পদচারী–সেতু স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে তাঁরা দেখা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আরও দুই বছরের মতো সময় লাগতে পারে। দীর্ঘ এক বছরেও মেয়রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাঁরা হতাশ। সময়ের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে।

ফারুক আহম্মদ আরও বলেন, ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চালানো গাড়িটির চাপায় নাঈমের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তার পরিবারের দিন কাটছে কষ্টে। জীবন কেটে যাচ্ছে। তবে বুকে চাপা কষ্টও আছে। হারানো আপনজনের কথা মনে পড়লেই হাহাকার বাড়ে।

নাঈমের বাবা শাহ আলম বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি নেই। কোনো ক্ষতিপূরণের অর্থও পাননি তাঁরা। তাঁদের একটাই দাবি, নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সময়ে বিচার নিশ্চিত করা। প্রতিশ্রুতিমতো নাঈমের নামে গুলিস্তানে পদচারী–সেতু স্থাপন করার দাবিও জানান তিনি।

২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর নাঈমের মৃত্যুর খবরে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগর ভবনে যায়। পরে গুলিস্তান মোড়ে গিয়ে তারা সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনার ন্যায়বিচার, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরে।

পরদিন নটর ডেম কলেজের কয়েক শ শিক্ষার্থী নগর ভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে নাঈমের মৃত্যুকে ‘হত্যা’ উল্লেখ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানায়। ওই দিন মেয়র নাঈমের নামে গুলিস্তানের ব্যস্ততম সড়কে পদচারী–সেতু স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।