পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিরোধ, ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

লাশপ্রতীকী ছবি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পুকুরে পাট জাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বড় ভাইকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার নওদা বহালবাড়িয়া গ্রামের ঠাকুরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুকুরটির মালিকানা আছে তাঁদের অপর দুই ভাই জিতু ও হেলালের। এর মধ্যে হেলালের অংশ বেশি। দুর্গন্ধ ছড়াবে—এ কথা বলে নুর ইসলামকে পাট জাগ দিতে নিষেধ করেন জিতু।

নিহত নুর ইসলাম (৫০) মৃত ওহাব মণ্ডলের ছেলে। পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে নিহত ব্যক্তির ছোট ভাইসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম পাঁচ ভাইয়ের একজন। তাঁদের বাড়ির পাশে একটি পুকুর আছে। সেই পুকুরে পাট জাগ দেওয়ার জন্য সালাম মাঠ থেকে পাট কেটে পুকুরপাড়ে রাখেন। পুকুরটির মালিকানা আছে তাঁদের অপর দুই ভাই জিতু ও হেলালের। এর মধ্যে হেলালের অংশ বেশি। দুর্গন্ধ ছড়াবে—এ কথা বলে নুর ইসলামকে পাট জাগ দিতে নিষেধ করেন জিতু। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। হেলাল পাট জাগ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাট জাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দিনভর বাগ্‌বিতণ্ডা হয় ভাইদের মধ্যে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোপানো হয়।
আবদুল আজিজ, মিরপুর থানার পরিদর্শক

দিনভর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে জিতুসহ অপর ভাই ও ভাতিজারা একত্র হয়ে নুর ইসলামকে হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাট জাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দিনভর বাগ্‌বিতণ্ডা হয় ভাইদের মধ্যে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোপানো হয়। রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।