পরিবার নিয়ে ভ্রমর থাকেন নগরের লামাবাজার এলাকায়। স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ পাঁচজনের সংসার। ভ্রমর দাশ বলেন, বাড়িতে ভিটা ছাড়া আর কোনো জায়গাজমি নেই। বাড়িতে থাকা অবস্থায় অন্যের কৃষিকাজ করে দিন চালাতেন। তবে কৃষিকাজ সারা বছর থাকে না। আয়ে ভাটা পড়ে। এ জন্য ভালো কিছুর আশায় সিলেটে এসেছেন। তবে ভাগ্যের চাকা এখনো তাঁকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরাচ্ছে। পিঠা বিক্রি করেই আপাতত দিন যাচ্ছে তাঁর।

প্রতিদিন খরচ বাদে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয় ভ্রমরের। রসিকতা করে ভ্রমর বললেন, ‘যদিও এখনো নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা, তবে আগের চেয়ে দুই বেলা খেয়ে সংসার টিকায় রাখছি।’

বিকেলের দিকে পিঠা বিক্রির জন্য ভ্রমর ঠেলাগাড়ি নিয়ে বের হন। ঠেলায় ছয় থেকে সাত কেজি চালের গুঁড়া প্রস্তুত করা থাকে। এসব চালের গুঁড়া আগেই মেশিনে ভাঙিয়ে রাখেন। পরে সেগুলো দিনের বেলা পিঠা বানানোর উপযোগী করে প্রস্তুত করেন। সব কাজ তিনি নিজেই করেন। সব প্রস্তুতি শেষ করে তিনি বিকেলের দিকে গাড়ি নিয়ে বের হন। পিঠা বিক্রি চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। চালের গুঁড়া শেষ হলেই তিনি বাড়ি ফেরেন। ঘরে ফিরে আবার পরদিনের জন্য প্রস্তুতি নেন।

ভ্রমর বলেন, ‘তাঁর হিসাবে প্রতি কেজি চালের গুঁড়া দিয়ে ২৫ থেকে ২৬টি পিঠা তৈরি হয়। প্রতি পিস পিঠা তিনি ১০ টাকায় বিক্রি করেন। গেল বছরও আশপাশের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোয় পাঁচ টাকায় পিঠা বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১০ টাকায় বিক্রি না হলে পোষাচ্ছে না।’

আলাপের সঙ্গে সমানতালে পিঠা বানিয়ে যাচ্ছেন ভ্রমর। সেখান থেকে পিঠা কিনলেন নগরের ভাতালি এলাকার বাসিন্দা তমাল কর্মকার। তিনি বলেন, এখন সব কিছুর দাম বেড়েছে। ভাপা পিঠাও এখন একেকটি ১০ টাকা করে। শীতের সময় পিঠা খেতে ভালো লাগে। বাড়িতে বাচ্চারাও পিঠা পছন্দ করে। এ জন্য সবাই মিলে খাওয়ার জন্য পিঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুরোপুরি শীত না আসায় পিঠার বাজার এখনো খুব একটা জমেনি। কিছুদিন পর বিক্রি দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছেন ভ্রমর। বিক্রি বাড়লে সংসারের খরচ বাদে কিছু টাকা জমাতেও পারবেন। জমানো টাকায় শীতের পরে ভালো কোনো ব্যবসা করার পরিকল্পনার কথা জানালেন ভ্রমর।