নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তাইফুল ইসলামের (টিপু) নির্বাচনী মিছিলে হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জের ধরে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিনের (পুতুল) নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাত আটটার দিকে লালপুর উপজেলার কচুয়া বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হামলায় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর আহত কর্মীদের মধ্যে ১০ জনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন আড়বাব গ্রামের ফারুক হোসেন (৪৮), জালাল উদ্দিন (৭৫), সম্রাট আলী (২৬), বড়বড়িয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৩৪), শেরপাড়া গ্রামের মো. পান্না (৩২), জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), এনামুল হক (৫০), শিহাব উদ্দিন (৩০), সাহেদ আলী (২০) ও ফরহাদ হোসেন (৩৭)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে তাইফুল ইসলামের শতাধিক কর্মী ‘কলসি’ প্রতীকের সমর্থনে কচুয়া বাজারে মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিএনপির প্রার্থীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হামলা চালানো হয়। এ সময় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর ১২ জন কর্মীকে মারধর করা হয়। ঘটনার সময় ‘বিদ্রোহী’ সমর্থকদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর পরপরই ধানের শীষের কার্যালয়ের কিছু চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। পরে আহত ব্যক্তিদের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সেখানে সাতজনকে ভর্তি করা হয়। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বজলুর রহমান বলেন, কলসির মিছিল ধানের শীষের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছামাত্র হামলা চালানো হয়। মুহূর্তেই বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। পরে ধানের শীষের কার্যালয়ের কিছু প্লাস্টিকের চেয়ার ছড়ানো–ছিটানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কর্মীরা শান্তিপূর্ণ প্রচার মিছিল করছিল। মিছিলটি বাজারের মাঝের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ধানের শীষের কার্যালয় থেকে দুষ্কৃতকারীরা হামলা করে। এতে আমার ১২ জন কর্মী আহত হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর।’
তবে ধানের শীষের প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মো. বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কলসির মিছিল থেকে কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার–টেবিল ভাঙচুর করা হয়।’
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুল হক বলেন, খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে। কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।