মৌলভীবাজারে বিপন্ন প্রজাতির খয়রা মেছো প্যাঁচা উদ্ধার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কুরমা চা–বাগান থেকে উদ্ধার খয়রা মেছো প্যাঁচা। শুক্রবার দুপুরে তোলা
ছবি: প্রথম আলো

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থেকে একটি বিপন্ন প্রজাতির খয়রা মেছো প্যাঁচা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কুরমা চা–বাগান থেকে বন বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেঞ্জার্ড ওয়াইল্ডলাইফ (সিউ) সদস্যরা পাখিটি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। গ্রামাঞ্চলে এ প্রজাতিটি ভুতুম প্যাঁচা নামে বেশি পরিচিত। ইংরেজি নাম ব্রাউন ফিশ আউল (Brown fish owl)৷ বৈজ্ঞানিক নাম Ketupa Zeylonensis৷

এ প্রজাতির প্যাঁচার মূল খাদ্য মাছ। ছোট ও মাঝারি ইঁদুর-ব্যাঙও খায়। নিশাচর এ পাখিটি যেকোনো এক পা দিয়ে মাছ ধরে গাঁথে, তারপর উড়াল দিয়ে গাছের ডালে বসে। আগে গ্রামে হরহামেশাই, বিশেষত হেমন্ত-শীতে রাতে ভুতুম প্যাঁচার গুরুগম্ভীর ‘ভূত ভূত...ভূত ভুতুম’ বা ‘বুদ বুদ বুদ বুদুম’ ডাক শুনে অনেকে ভয় পেত।

উদ্ধার খয়রা মেছো প্যাঁচাটি বর্তমানে বন বিভাগের দায়িত্বে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে আছে। প্যাঁচাটি উড়তে পারছে না। এটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে
ছবি: প্রথম আলো

সিউর সমন্বয়ক সোহেল শ্যাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার ঝড়বৃষ্টিতে প্যাঁচাটি আহত হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। পরে রাতেই আমাদের সিউর সদস্য সাগর পাশী প্যাঁচাটিকে বাসায় নিয়ে রাখে। আজ দুপুরে বন বিভাগ ও আমরা কুরমা চা-বাগানে গিয়ে একে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এটি বর্তমানে বন বিভাগের দায়িত্বে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে আছে। প্যাঁচাটি উড়তে পারছে না। এটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে বনে ছাড়া হবে।’

সোহেল শ্যাম বলেন, খয়রা মেছো প্যাঁচা লম্বায় ৫২-৫৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। মাথা, ঘাড়, গলায় কালোর ওপর সাদা ছোপ। মাথার দুই পাশের পালক খানিকটা লম্বা হওয়ায় তা কানের মতো মনে হয়। পিঠ বাদামি-কালো টান। বুক ও পেটে রয়েছে হালকা বাদামি-কালো লম্বা টানের ছিট। চোখ গোলাকার বড়সড়, জ্বলজ্বল করে। পা ফিকে হলদে। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। প্রজনন সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল। বাসা বাঁধে গাছের প্রাকৃতিক কোটরে অথবা পুরোনো দালানের ফোকরে। ডিম পাড়ে এক-দুটি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩০-৩৫ দিন। এটি এখন খুবই কম দেখা যায়।