আবুল হাসেম ভূঁইয়ার বাড়ি নান্দাইল উপজেলার উদংমধুপুর গ্রামে। তাঁর চতুর্থ সন্তান আলপিনা কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হোসেনপুর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান শ্রেণির তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পাশাপাশি জেলার একটি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।

আজ সোমবার বিকেলে আলপিনার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনের সড়কে মাত্রই জানাজা শেষ হয়েছে। স্বজনেরা বাড়ির কাছের কবরস্থানে আলপিনাকে শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাড়ি থেকে ভেসে আসছে কান্নার রোল। আলপিনা আক্তারের মা রুহিতা খাতুন মেয়ে হারানোর শোকে কথা বলতে পারছিলেন না। অন্য স্বজনেরা ছিলেন দাফন নিয়ে ব্যস্ত।

শোকাহত বাবা আবুল হাসেম ভূঁইয়া কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বলেন, তাঁর মেয়ে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনাই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। নিজে পড়ালেখা তেমন একটা করতে পারেননি। তাই চেয়েছিলেন মেয়ে পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করুক। এ জন্য বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে হোসেনপুর সরকারি কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। আলপিনা কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে থাকতেন এবং একটি মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। সেখান থেকে কলেজে গিয়ে ক্লাস করতেন।

default-image

চার দিন ধরে বাড়িতে শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান আবুল হাসেম। তিনি বলেন, সম্প্রতি আলপিনার মামাতো বোন মারা যান। খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন আলপিনা। শুক্রবার দুপুরে মামাতো বোনকে শেষবারের মতো দেখার জন্য বাড়ি থেকে উপজেলা দিলালপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে মুঠোফোনে খবর পান দিলালপুর মহাবৈ সড়কে একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তাঁর মেয়ে। তাঁকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান, তাঁর মেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন।

ঘটনাস্থলের একজন প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আলপিনা একটি ইজিবাইকের যাত্রী ছিলেন। ইজিবাইকটি দ্রুতগতিতে মোড় নেওয়ার সময় তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় আরেকটি ইজিবাইক তাঁকে চাপা দেয়।

অচেতন আলপিনা আক্তারকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও সেখান থেকে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চার দিন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ভোর পাঁচটায় মারা যান তিনি।

আলপিনার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। উদংমধুপুর গ্রামের কয়েক বাসিন্দা বলেন, কিশোর ও অনভিজ্ঞ চালকেরা গ্রামের সড়কে ইজিবাইকসহ নানা ধরনের যানবাহন চালাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন থেকে এসব বিষয়ে নজরদারি নেই। এ কারণে নিয়মিতই দুর্ঘটনা ঘটছে।

জানতে চাইলে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন