রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুলাউড়ার মনু থেকে মাইজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত এলাকায় ২১টি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের ১৮টিতে প্রতিবন্ধক রয়েছে। সেখানে গেটম্যানও রয়েছেন। বাকি তিনটিতে প্রতিবন্ধক ও গেটম্যান নেই। অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে টিলাগাঁও ও লংলা রেলস্টেশনের মধ্যে ৫, লংলা ও কুলাউড়া রেলস্টেশনের মধ্যে ৮, কুলাউড়া ও বরমচাল রেলস্টেশনের মধ্যে ৬, বরমচাল ও ভাটেরা বাজার রেলস্টেশনের মধ্যে ১১, ভাটেরা বাজার ও মাইজগাঁও রেলস্টেশনের মধ্যে ১১ এবং মাইজগাঁও ও মোগলাবাজার রেলস্টেশনের মধ্যে ২টি পড়েছে।

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, রেললাইনের ওপর দিয়ে লেভেল ক্রসিং স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা পড়লে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করবে। পরে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে লেভেল ক্রসিংয়ের জন্য প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরে উপকারভোগী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিলে রেল কর্তৃপক্ষ লেভেল ক্রসিং স্থাপন করে দেয়।

২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভাটেরা বাজার রেলস্টেশনের কাছে হোসেনপুরে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস অবৈধ লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করছিল। এ সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন ওই গাড়িটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ঠেলে নিয়ে যায়। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা শিশুসহ দুজনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন আরও ছয়জন যাত্রী।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীরা বলেন, দুর্ঘটনার পর ওই স্থানে রেললাইনের দুই পাশে লোহার তিনটি করে পাত পুঁতে অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ করা হয়। পরে এলাকার লোকজন মাঝখানের পাত খুলে আবার চলাচল শুরু করে দেয়।

কুলাউড়া সেকশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) জুয়েল আহমদ গত শনিবার বলেন, লেভেল ক্রসিংয়ের ক্ষেত্রে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ভেতর কোনো ধরনের লেভেল ক্রসিং স্থাপনের নিয়ম নেই। অথচ কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশনে বছরখানেক আগে স্থানীয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে একটি লেভেল ক্রসিং স্থাপন করে। বাধা দিলেও মানা হয়নি। এসব লেভেল ক্রসিং বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার লোকজনের সহযোগিতা চাইলেও পাওয়া যায় না।

কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদ বলেন, উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়ন ও পৌরসভার জয়পাশার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথের ওপর দিয়ে পাকা সড়ক করা হয়। সেখানে প্রতিবন্ধক ও গেটম্যান চেয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

কুলাউড়ার ভাটেরার ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নের অর্ধেক গ্রাম রেলপথের এক পাশে আর বাকি অর্ধেক বিপরীত পাশে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু রবারবাগান এলাকায় একটি বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে সাতটি স্থানে।

এলজিইডির মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আজীম উদ্দীন সরদার বলেন, রেলপথের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশে রাস্তা নির্মিত হয়ে গেছে। এতে মানুষের উপকার করতে গিয়ে তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও এলজিইডি বিভিন্ন স্থানে রেলপথের অবৈধ লেভেল ক্রসিং পরিদর্শন করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে বা নিয়েছে, তা জানা যায়নি। অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোয় প্রতিবন্ধক ও গেটম্যানের ব্যবস্থা করলে সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে সেটার ব্যয়ভার বহন করা দরকার।

রেলওয়ে সিলেটের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, যেসব অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহন কম চলাচল করে, সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং বাকিগুলোয় প্রতিবন্ধক ও গেটম্যানের ব্যবস্থার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।