গাজীপুরে বাজারদর
সবজির দাম চড়া, নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে
অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। মাছের দাম কিছুটা স্থিতিশীল। তবে হেরফের আছে মুরগি ও গরুর মাংসে।
তখন বিকেল পাঁচটা। গাজীপুর নগরের জয়দেবপুর কাঁচাবাজারে গমগম করছিল মানুষ। কেউ কেনাকাটায় ব্যস্ত, কেউবা পণ্য দেখছিলেন ঘুরে ঘুরে। এর মধ্যেই হঠাৎ একটি দোকানে চোখ আটকে গেল অনেকের। সবজি বিক্রেতা আফজাল হোসেন ও ক্রেতা স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাজিয়া বেগম কিছু একটা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা করছেন, অনেকটা ঝগড়ার মতো। কেনাকাটার ব্যস্ততার মধ্যেও সেদিকে চোখ আটকে গেল অনেকের।
কাছে গিয়ে জানা গেল, প্রায় সব সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। রাজিয়া ১ কেজি শসা (দেশি) কিনে ৫০ টাকা দিতে চাইছেন, কিন্তু বিক্রেতা আফজাল ৬০ টাকার কমে কিছুতেই দেবেন না। এ নিয়েই দুজনের মধ্যে চলছিল বচসা। জানতে চাইলে প্রতিবেদকের কাছে রাজিয়া বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা দিয়া সবজি কিনমু কেমনে। যা বেতন পাই, তার সবই যায় ঘরভাড়া আর সন্তানের লেখাপড়ায়। আমাগোর টিকে থাকাই মুশকিল।’
প্রকৃতিতে এখন শীতকাল। সবজির ভরা মৌসুম। তারপরও গাজীপুরের বাজারগুলোতে কমেনি সবজির দাম। অধিকাংশ সবজির দাম এখনো ৫০ টাকার ওপরে। মাছের দাম কিছুটা স্থিতিশীল। তবে হেরফের আছে মুরগি ও গরুর মাংসে। তাই এমন বাজারদর নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে বেকায়দায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুর নগরের জয়দেবপুর কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি শসা (দেশি) ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৫৫ থেকে ৬০, পটল ৮০, টমেটো দেশি ৬০, চিচিঙ্গা ৮০, বরবটি ৮০, গাজর ৫৫, ঢ্যাঁড়স ১০০, মরিচ ৬০ থেকে ১০০, করলা ৮০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৩০, আলু ৩০ এবং প্রতিটি লাউ গড়ে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়। নগরের টঙ্গী কাঁচাবাজার, বউবাজার, জামাইবাজারসহ অন্যান্য বাজার ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। দুই সপ্তাহ আগে সবজিগুলোর দাম ছিল আরও বেশি।
সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজির দাম মাঝেমধ্যেই ওঠানামা করে। তা ছাড়া এবার শীতের শুরু থেকেই সবজির সরবরাহ তুলনামুলক কম, তাই তাঁদেরও বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। জয়দেবপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা রতন মিয়া বলেন, ‘শীতকালেও সবজির দাম বেশি রাখছি, ব্যাপারটা এমন নয়। এবার শীতের শুরু থেকেই সবজি কিছুটা কম। তাই আমাদের আড়ত থেকেই সবজি কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।’
তবে ব্যবসায়ীদের এমন কথার সঙ্গে একমত নন ক্রেতারা। তাঁরা বলছেন, বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। এখনো তা–ই করছেন। শীতে সবজির সরবরাহ কম, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিক্রেতারা ইচ্ছা করেই দাম বাড়িয়ে দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ বা ঠিকমতো বাজার মনিটরিং না করায় বাজারের এমন অবস্থা বলে দাবি তাঁদের।
এদিকে মাছের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি রুই-কাতলা ২২০-৩০০ টাকা, চিতল ৫৫০-৬০০, শিং ৩৫০-৪০, চিংড়ি ৫০০-৯০০, টেংরা ৪০০-৬০০, বাইম ৫৬০-৬০০, কাচকি ৪০০, মলা ১৪০-১৬০ এবং ইলিশ আকারভেদে ৫০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী জানান, মাছের দাম কিছুটা স্থিতিশীল। তবে শীত আরও বেশি পড়লে, যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিলে দাম বেড়ে যেতে পারে।
একইভাবে মুরগির দোকানগুলোতেও গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ২৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৪০ থেকে ৬৬০ টাকায়।
বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজার মনিটরিংয়ের জন্য সব সময়ই আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। আমি নিজেও বাজার ঘুরে দেখেছি। আমার কাছে বাজার বেশ স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তারপরও প্রতি মাসে বাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মিটিং হচ্ছে, কাজ করছি।’