কুড়িগ্রাম পৌরসভার গুয়াতিপাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ মোর্শেদা বেগম সকাল থেকে কলেজ মোড়ের টাউন হল মার্কেটে ওএমএসে পরিবেশকের বিক্রয়কেন্দ্রে অপেক্ষা করছেন। মোর্শেদা বেগম লাইনে দাঁড়ালেও দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন তাঁর সঙ্গে আসা মরিয়ম বেগম (৩৭)। মোর্শেদা তাঁর (মরিয়মের) জন্য ক্রেতাদের লাইনে জায়গা রেখেছেন। পোশাক দেখে বোঝা গেল মরিয়ম মধ্যবিত্ত, লোকলজ্জায় লাইনে দাঁড়াচ্ছেন না।

মরিয়ম বেগমের স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে এসআরের (বিক্রয় প্রতিনিধি) কাজ করেন। পরিবারে সদস্যসংখ্যা ৪। সবজি থেকে চাল-ডাল সব কিনে খেতে হয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা সব মিলিয়ে মাস শেষে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। বাজারে চাল ও আটার দাম বেশি, সে কারণে সাশ্রয়ী দামে পণ্য দুটি কিনতে ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রে এসেছেন।

 মোর্শেদা বেগমের স্বামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। তাঁদের গ্রামের পাশেই কুড়িগ্রাম পুরোনো রেলস্টেশনে ও কুড়িগ্রাম পাবলিক লাইব্রেরিতে ওএমএসের চাল-আটা দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ভিড় বেশি থাকায় তাঁরা এসেছেন কলেজ মোড়ে। কথা বলে জানা গেল, এলাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে চাল-আটা কিনতে লজ্জা লাগে, তাই দূরের খোলাবাজারে এসেছেন। এখানে তাঁদের কেউ চেনে না। লজ্জা কম লাগে।

বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় মোর্শেদার মতো অনেকেই সকাল আটটার দিকে এসে ইট বা ব্যাগ ফেলে রেখে প্রতিবেশীর জন্য জায়গায় রাখেন। ব্যাগ কিংবা ইট দিয়ে জায়গা কেন রাখা লাগে, এর কারণ জানালেন ভোকেশনাল মোড়ে ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রে চাল নিতে আসা মর্জিনা বেগম (৬০)। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০০ জনকে চাল ও ২০০ জনকে আটা দেওয়া হয়। কিন্তু সকালে চাল-আটা বিতরণ শুরুর আগেই কয়েক শ মানুষ এসে লাইনে দাঁড়ান। যাঁরা দেরি করে আসেন, তাঁদের চাল বা আটা না পেয়ে ফেরত যেতে হয়। তাই প্রতিবেশী যদি কেউ আগে আসেন, তিনি অপর প্রতিবেশীর জন্য জায়গা রাখেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে জেলার ২৮টি কেন্দ্রে মোট ৬১৬ মেট্রিক টন চাল ও ১৯৮ মেট্রিক টন আটা খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে জেলার কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ১৯৮ মেট্রিক টন চাল ও ১৯৮ মেট্রিক টন আটা, উলিপুর পৌরসভায় ৬৬ মেট্রিক টন চাল, নাগেশ্বরী পৌরসভায় ৮৮ মেট্রিক টন চাল ও বাকি ৬টি উপজেলায় ৪৪ মেট্রিক টন করে চাল বিতরণ করা হয়।

জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবু বকর বলেন, ‘প্রত্যক ডিলার এক দিন পরপর ওএমএসের পণ্য নিয়ে এসব খোলাবাজারে বসেন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় বলে শুনেছি। জনভোগান্তি এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে আমাদের একজন করে সুপারভাইজার উপস্থিত থেকে পণ্য বিক্রি করেন। যাতে অনিয়ম ও ভোগান্তি এড়ানো যায়।’