চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বেলা তিনটার দিকে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খাল এলাকায়ছবি: জুয়েল শীল

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ এ বছরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতার সমাধান হবে। এখানে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা হবে না।

আজ শনিবার বেলা তিনটায় চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন একটি, পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত আট বছরে প্রকল্পগুলোর কাজে খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। সাত থেকে আট বছর ধরে এসব প্রকল্পের কাজ চলছে। সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, অতীতে প্রকল্প করা হলেও যথাযথভাবে অর্থায়ন করা হয়নি। এখন চেষ্টা করছেন যা অর্থ প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য। যদিও বর্তমানে যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারি তহবিলের অবস্থা কিছুটা কঠিন অবস্থায় রয়েছে। বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া দায়ও মেটাতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন করে চট্টগ্রামবাসীর কষ্ট দূর করাকেই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্পে যদি কোনো লুটপাট হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে। এর সঙ্গে কারা জড়িত তাঁদেরও খুঁজে বের করা হবে।’

পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রকল্পের অগ্রগতির খোঁজখবর নেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বেলা তিনটার দিকে তোলা
ছবি: জুয়েল শীল

অর্থমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন ও সিডিএ অনেকগুলো কাজ করেছে, যার সুফল সামনে পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং যেখানে যা সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িঘর রয়েছে, তা সরাতে হচ্ছে, সেখানে প্রতিরোধ দেয়াল দেওয়া হচ্ছে এবং খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে।’

গত ২৮ এপ্রিল সকালে মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম নগর। ওই দিন টানা বৃষ্টিতে কোথাও বুকসমান, কোথাও হাঁটুপানিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রবর্তক এলাকা দিয়ে চলাচলকারী লোকজনকে। হাসপাতাল, রোগনির্ণয় কেন্দ্র, স্কুল-কলেজ, অভিজাত বিপণিবিতানের কারণে এই এলাকায় সব সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে।

এখন বর্ষা মৌসুমের কারণে অসমাপ্ত কাজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বর্ষা শেষ হলে প্রকল্পগুলোর কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ করা হবে। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। পানি নিষ্কাশনে আর সমস্যা হবে না। যদিও অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলজট হতে পারে।’

চট্টগ্রামে থাকা ছোট-বড় ১৩০টি খালের সবগুলোকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। কতটুকু বৃষ্টি হলে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে এবং সাগরে আউটলেট দিয়ে কীভাবে পানি নিষ্কাশিত হবে, তার সব হিসাব-নিকাশ করে কাজগুলো করা হচ্ছে। এখানে জোয়ার-ভাটার বিষয় আছে। জলকপাট (স্লুইসগেট) পরিচালনার ব্যবস্থাপনার বিষয় আছে। সবগুলো কাজ গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে।’

আগে জলাবদ্ধতা নিরসন কাজে সমন্বয়ের অভাব থাকলেও বর্তমানে তা নেই উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রকল্পের কাজে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। আগে তা ছিল না। এখন সমন্বয়ের মাধ্যমে সবাই কাজ করছে। আর প্রকল্পটি সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।’

অর্থমন্ত্রী, তিন প্রতিমন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালসহ নগরের আরও কিছু খালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম, প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরী প্রমুখ।