‘পুলিশ পরিচয়ে’ গভীর রাতে আওয়ামী লীগ নেতাকে অপহরণ

হোসেন আলী।ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

অপহৃত ব্যক্তির নাম হোসেন আলী (৬২)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। আজ শনিবার বেলা একটা পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মুক্তিপণের জন্য বাহারছড়ায় প্রায়ই অপহরণের ঘটনা ঘটে। গত চার মাসে অপহৃত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বয়স ছিল ৪০ বছরের নিচে। ৬২ বছর বয়সী হোসেন আলীকে কেন অপহরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মো. অহিদুর রহমান আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাহারছড়ার এক সন্ত্রাসীর বাবা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘ক্রসফায়ারে’ তিনি নিহত হন। ক্রসফায়ারের ঘটনার সঙ্গে হোসেন আলীর সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে প্রতিশোধমূলকভাবে তাঁকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। ক্রসফায়ারে নিহত ওই ব্যক্তির ছেলে বর্তমানে স্থানীয় পাহাড়কেন্দ্রিক একটি ডাকাতদলের সদস্য।

আজ দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অপহৃত হোসেন আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টার দিকে তাঁরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত পৌনে দুইটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলেন। দরজা না খুললে তাঁরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। পরে বাধ্য হয়ে দরজা খুললে পাঁচজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি ঘরে ঢুকে হোসেন আলীকে জিম্মি করে বাইরে নিয়ে যান।

হোসেন আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, এ সময় বাইরে আরও ছয় থেকে সাতজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অস্ত্রধারীরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপর হোসেন আলীকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান।

কান্নাজড়িত রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকেই আমার স্বামী রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।’

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইলিয়াস বলেন, সমুদ্র উপকূলীয় বাহারছড়া এখন মানব পাচার ও অপহরণকারীদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে মুক্তিপণের জন্য নিয়মিত অপহরণ করছে। গত চার মাসে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও নৌবাহিনী ১৫টির বেশি অভিযান চালিয়ে কয়েক শ মানুষকে উদ্ধার করলেও অপহরণ বন্ধ হয়নি।

বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আবু সাঈদ বলেন, মুখোশধারী ব্যক্তিদের এই অপহরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অপহরণের পেছনে পূর্বশত্রুতার বিষয়ও থাকতে পারে। কারা, কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্তের পাশাপাশি অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।