নোয়াখালীতে চলছে না দূরপাল্লার গাড়ি, অভিযানে গ্রেপ্তার আরও ২৫

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে অবরোধ সমর্থনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চৌমুহনী রেলগেট এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

নোয়াখালীতে তৃতীয় দিনের মতো বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলছে। অবরোধের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোয় ছোট যানবাহনের চলাচল আগের দুই দিনের তুলনায় বেড়েছে। তবে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে না। অবরোধ সমর্থনে আজ সকালে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে গতকাল বুধবার রাতে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের আরও ২৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের ১৭৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম নতুন করে আরও ২৫ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই বিভিন্ন মামলার আসামি।

আজ সকালে নোয়াখালী গেট থেকে দত্তেরহাট এলাকা ঘুরে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আগের দুই দিনের তুলনায় বেশি চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে চলতে দেখা যায়নি দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার সব কটি যাত্রীবাহী বাসের কাউন্টার বন্ধ দেখা যায়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সকাল সাতটার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলটি চৌমুহনী পূর্ব বাজার থেকে শুরু হয়ে রেলগেট এলাকা পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। তবে এ সময় পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পূর্ব বাজারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার বিএনপি ও জামায়াতের ২৫ নেতা-কর্মীর মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলার ১, সুধারামের ৩, কোম্পানীগঞ্জের ৬, সোনাইমুড়ীর ৩, সেনবাগের ১০, চাটখিলের ১ একজন রয়েছেন। এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।