দেখা গেছে, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া আশুরঘাটসংলগ্ন নদীতে পাঁচটি খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তুলছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি দেশসেরা চ্যাম্পিয়ন বলী দিদারুল আলম।

তবে দিদারুল আলম বলেন, বালু তোলায় তিনি জড়িত নন। এলাকার কিছু মানুষ তাঁর খননযন্ত্র ভাড়া নিয়ে বালু তুলছেন। নিষিদ্ধ খননযন্ত্র ভাড়া দেওয়ার প্রসঙ্গ তুললে তিনি নীরব থাকেন।

বাঁকখালীর রামুবাজার থেকে ফরেস্ট অফিস পর্যন্ত এক কিলোমিটারে বালুমহাল এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক চৌধুরী। তবে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলার অনুমতি নেই। নুরুল হক বলেন, ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করে ১ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। সাত মাসে মাত্র পাঁচ লাখ টাকার প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু তুলেছেন। বাকি ৫ মাসে ৪০ লাখ টাকার বালু উত্তোলন হবে কি না, সন্দেহ আছে। তাই খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ সভাপতি দীপক শর্মা প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতির মাঠে বিএনপি–আওয়ামী লীগ মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও বালু ব্যবসায় ভাই–ভাই সম্পর্ক। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদীর প্রায় ২৫টি অংশ থেকে ৫০-৫৫টি খননযন্ত্র বসিয়ে দৈনিক ৫০০ ট্রাক বালু তোলা হচ্ছে। তাতে নদীর দুই তীর, ফসলি জমি ও লোকজনের ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকমারকুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া অংশের নদীতে ১০টি খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তুলছেন চাকমারকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন সিকদার, দলীয় সমর্থক মো. সাঈদ, নুরুল আমিন, মো. কামাল, আলাউদ্দিনসহ ১০-১২ জন। গর্জনিয়া ইউনিয়নের গর্জই খালের রাজঘাট এলাকায় একাধিক খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা মারুফ চৌধুরী। ইউনিয়নের আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের পাশে গর্জই খালে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তুলছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল জব্বার। একই ইউনিয়নের পূর্ব বোমাংখিল শর্মাপাড়ায় নদীতে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলছেন তানজিদ রায়হান।

কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বড় জাংছড়ি খালের চারটি পয়েন্টে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তুলছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা জহির ইসলাম। খুনিয়াপালং ইউনিয়নে নদীর কয়েকটি অংশে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ তিনটি পক্ষ।

একাধিকবার যোগাযোগ করেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন ধরেননি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরুপম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অর্থদণ্ড করা হচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর নুরুল হক চৌধুরীকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জব্দ করা হয় দুটি খননযন্ত্র। গর্জনিয়াতেও একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

দীপক শর্মার অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে কয়েকটি খননযন্ত্র জব্দ ও নগদ টাকা জরিমানা করেন। প্রকৃত অর্থে মিলেমিশে চলছে বালুর ব্যবসা।

বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তখন নদীর দুই তীর বিলীনের পাশাপাশি ঘরবাড়ি, নানা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব রক্ষায় সরকার ২০৪ কোটি টাকার তীর রক্ষার প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রকল্পটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

দলীয় নেতা–কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম মন্ডল বলেন, ‘নুরুল হক চৌধুরী বালুমহালের ইজারাদার হলেও অনেকে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করছেন। এটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, এর দায় দল নেবে না। বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা (দল) সহযোগিতা দেব।’