গারো পাহাড়ের রঙিন গোলাপ যাচ্ছে ঢাকায়
ভারতের মেঘালয় রাজ্যে শীত নামে আগেভাগে, থাকে দীর্ঘ সময়, সারা বছর কমবেশি বৃষ্টি হয়—এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের পাহাড়েও। সেই অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের ঢালে গড়ে উঠছে রঙিন গোলাপের বাণিজ্যিক বাগান। রাজধানীর ফুলের বাজারে প্রতিদিন যাচ্ছে এখানকার তাজা গোলাপ।
রাজশাহী থেকে এসে ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাপ চাষ শুরু করেছেন আছির উদ্দিন নামের এক চাষি। ৪৩ শতাংশ নিজস্ব ও সমপরিমাণ লিজ নেওয়া জমিতে তিন বছর ধরে তিনি চাষ করছেন নানা রঙের গোলাপ। শেরপুরের ফুলচাষি মোহাম্মদ আলীর বাগান দেখে এখানে ফুল চাষে আগ্রহী হন তিনি।
ঝিনাইগাতীর সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে মোহাম্মদ আলী ২০২১ সালে এক একর জমিতে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ শুরু করেন। তাঁর বাগানের ফুল নিয়মিত রাজধানীর শাহবাগ ফুলের বাজারে সরবরাহ করা হয়। তাঁর সাফল্য দেখে এলাকায় আরও অনেক কৃষক গোলাপ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
২০২৩ সালে আছির উদ্দিন ঝিনাইগতীতে এসে মহারশি নদের তীরের জমির মাটি ও পানি পরীক্ষা করে বাগান গড়ে তোলেন। ভারত থেকে আনা টিস্যু কালচারের চায়না গোলাপের চারা রোপণ করেন তিনি। দুই বাগান মিলিয়ে এখন তাঁর বাগানে প্রায় ১৮ হাজার গোলাপগাছ। প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ফুল তুলে ঢাকায় পাঠানো হয়।
মোহাম্মদ আলীর এক একর বাগানে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার গোলাপগাছ আছে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ফুল তোলা হয়। মৌসুমভেদে একটি ফুল ১০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদ আলীকে দেখে রাংটিয়া, সন্ধ্যাকুড়া ও ঘোমরা এলাকায় অন্তত ১৩ কৃষক বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষে যুক্ত হয়েছেন। একেকটি গাছ ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ফুল দেয়। তবে পরিচর্যায় নিয়মিত খরচ আছে।
রাংটিয়া এলাকায় ৩৫ শতাংশ জমিতে গোলাপ চাষ করেছেন আবদুস সালাম ও তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম। তাঁরা এক দিন পরপর ৩০০ থেকে ৪০০ ফুল বিক্রি করেন শেরপুরের শহরে। আগামী দিনে বাগান আরও বড় করার স্বপ্ন তাঁদের।
মেঘালয়ের আবহাওয়ার প্রভাবে এখানে গোলাপ চাষ ভালো হচ্ছে জানিয়ে আছির উদ্দিন বলেন, ‘এতে ব্যয় বেশি হলেও একবার বাগান হলে ১০ থেকে ১৫ বছর ফুল পাওয়া যায়। একটি ফুল ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়।’
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কখনো লাভ, কখনো লোকসান—এই হিসাব নিয়েই ফুলের ব্যবসা করতে হয়। আমার বাগান দেখে অনেকেই এলাকায় গোলাপের বাগান করেছেন। অনেকেই লাভের মুখ দেখছেন।’
গারো পাহাড়ের সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে প্রায় চার হেক্টর জমিজুড়ে গোলাপের বাগান আছে বলে জানান শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. আলমগীর কবীর। তিনি বলেন, এসব বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার ফুল রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে গোলাপ চাষের সম্ভাবনা বাড়ছে।