পঞ্চগড়ে চৈত্রেও ঘন কুয়াশা, ‘শিশির’ ঝরলেও ঠান্ডা কম

কুয়াশার ঘন আস্তরণে ঢেকে গেছে চারদিক। এরই মধ্যে মাঠে গরু নিয়ে বের হয়েছেন এক কৃষক। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়ছবি: রাজিউর রহমান

প্রকৃতিতে এখন চৈত্র মাস। সাধারণত এ সময় তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে, থাকে কাঠফাটা রোদ। তবে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে পঞ্চগড়ে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে ঘন ‘কুয়াশার’ মতো আবহাওয়া দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মৌসুমে পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা দেখা গেলেও চৈত্র মাসে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক। সকালজুড়ে রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ ও গাছপালা সাদা আস্তরণে ঢেকে যেতে দেখা গেছে। অনেকেই একে ‘অকাল কুয়াশা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে এটিকে ‘স্টিম ফগ’ বা ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলছেন আবহাওয়াবিদেরা। দখিনা বাতাস, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ বৃষ্টিকে এর মূল কারণ বলছেন তাঁরা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। একই সময়ে মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে শুরু হওয়া বাষ্পীয় কুয়াশা আজ সকাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল; সকাল আটটার পর সূর্যের দেখা মেলে।

মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার শিংপাড়া এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

আজ বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শীতের দিনের মতো ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারদিক। কোথাও কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো ঝরা জলকণায় ভিজেছে পিচঢালা সড়ক। প্রয়োজনীয় কাজে ঘর থেকে বের হয়েছেন অনেকেই; তাঁদের কারও গায়ে হালকা শীতের পোশাক আবার কেউ স্বাভাবিক পোশাকেই। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলতে দেখা যায়।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার গোফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সপিজুল ইসলাম (৬১) বলেন, ‘আজি সকালে উঠে দেখেচু, কুয়াশাতে সাদা হয় গেইছে। আগের দিনের বুড়া-বুড়িলা (বয়স্করা) কহিচে (বলেছে), চৈতে কুয়াশা হইলে বৈশাখে বান (বন্যা) হয়। এইবার যে কী হয় বাপু, আল্লাহয় জানে।’

সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন আবদুর রাজ্জাক (৬০) নামের এক ব্যক্তি। তিনিও কুয়াশা দেখে বিস্মিত হয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘চৈত্র মাসে এ রকম কুয়াশা আগে দেখিনি। কুয়াশাতে কাপড় ভিজে যাচ্ছে। কিন্তু খুব বেশি শীত অনুভূত হয় না। কেমন জানি আজব আবহাওয়া।’

এ ধরনের আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। জেলার সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, অসময়ে এ ধরনের কুয়াশায় জলীয় বাষ্পের সঙ্গে প্রচুর ধুলাবালু থাকে। যেগুলো মানুষের শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া ঠান্ডা-গরমের তারতম্যের কারণেও অনেকের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হওয়ার কারণে মূলত এমন আবহাওয়া চোখে পড়ে। মৌসুমি বায়ু যখন সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে শীতলতার সংস্পর্শে আসে, ঠিক তখন জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এতেই এ ধরনের কুয়াশা দেখা দেয়।